শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে: মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন গতি, অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের প্রস্তাব বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলছে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা, বদলেছে আবেদন পদ্ধতি তরুণ শিল্পীদের সৃজনশীলতা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করায়: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতার উদ্যোগ, দায়ীদের বিচার হবে: মির্জা ফখরুল দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস, ইকুয়েডরে শুক্রবার জাতীয় ছুটি ঘোষণা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ‘কঠোর যাচাইকরণ ব্যবস্থা’ চাইল আইএইএ হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজের ওপর টোল বসাতে চায় ইরান, বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭০২

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে হস্তান্তর: জাতীয় স্বার্থে বিপজ্জনক সংকেত

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯০ শতাংশের বেশি এই বন্দরঘাট দিয়েই সম্পন্ন হয়। অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত এ স্থাপনা শুধু বাণিজ্যের নয়—জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভূরাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সংবেদনশীল। ঠিক তখনই অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

বুধবার বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ১২ দলীয় জোট এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে “জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী” এবং “ভবিষ্যতে দেশের গলার কাঁটা” বলে মন্তব্য করেছে। জোট নেতারা অভিযোগ করেন, দেশের বন্দরগুলো বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো এবং জনমতের তোয়াক্কা না করেই, যা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির ভিত্তি। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির কাছে তুলে দিলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর পরোক্ষভাবে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। তাদের ভাষায়, “দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে এটি ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।”

এছাড়া তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনসম্পৃক্ত কোনো আলোচনা, সংসদীয় বহুমুখী বিবেচনা বা জাতীয় স্বার্থ মূল্যায়নের কোনো ধারাবাহিকতা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, অস্থায়ী সরকার রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না; অথচ বন্দর পরিচালনার মতো কৌশলগত সিদ্ধান্তে তারা অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করছে।

জোটের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে যেভাবে বিদেশ নির্ভর নীতি অনুসরণ করে দেশকে “তাঁবেদার রাষ্ট্রে” পরিণত করার চেষ্টা হয়েছিল, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারও সেই একই পথ অনুসরণ করছে। যা জনগণের স্বার্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং জনরোষের কারণ হতে পারে।

জোট নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও অবকাঠামো বিদেশি স্বার্থে হস্তান্তরের যে প্রক্রিয়া চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ না হলে ১২ দলীয় জোট সারাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে “দেশ বিক্রির চুক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার গণ-আন্দোলন” গড়ে তুলবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, মুখপাত্র ও এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা, ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী, লায়ন ফারুক রহমান, শামসুদ্দিন পারভেজ, মাওলানা আব্দুর রকিব, আবুল কাশেম, ফিরোজ মো. লিটন ও এম এ মান্নান।

বাংলাদেশের বন্দর পরিচালনা দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনের উদ্বেগ ও আলোচনা নিছক প্রতিক্রিয়া নয়—এটি জাতীয় স্বার্থ, রাষ্ট্রীয় নীতি এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD