রাইসুল আলম রবিন,খুলনা প্রতিনিধি: খুলনায় কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে খুলনা জেলা প্রশাসন। জরিমানা করা হয়েছে নির্দেশ অমান্য করা কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে। কোচিং সেন্টারের পরিচালকেরা কৌশলে কোচিং ও ব্যাচ চালু রাখার প্রমাণ পাচ্ছেন। তবে কোচিং ও ব্যাচ চালু রাখার তথ্য পেলেই অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, মাধ্যমিক পর্যায়ে সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা শুরু আগামী ২ ফেব্রুয়ারি। এ জন্য ২৭ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। এমন ষোষণা দিয়েছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বারবার মন্ত্রীর এমন ঘোষণার পরেও খুলনায় নেওয়া হয় না তেমন কোনো ব্যবস্থা। খুলনা মহানগরীতে পুরাতন কোচিংয়ের পাশাপাশি গড়ে ওঠে নতুন কোচিং। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের ব্যাচও কম নয়। তবে এবার মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী খুলনায় কোচিং সেন্টার বন্ধের সিদ্ধান্ত অ্যাসোসিয়েশনের। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অমান্য করলে আইনানুগ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন খুলনা জেলাপ্রশাসক।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী খুলনা জেলার জেলাপ্রশাসকের নির্দেশে ডুমুরিয়া উপজেলায় রোববার ও সোমবার কোচিং সেন্টার বন্ধে অভিযান চালানো হয়। রোববার অধিকাংশ কোচিং সেন্টার বন্ধ ছিলো। সোমবার জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় অনুনোমোদিতভাবে কোচিং চালানোয় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের নামে বিকেলে অবৈধভাবে কোচিং সেন্টার পরিচালনার জন্য সোমবার শেরে বাংলা রোডে আস্থা কিন্ডারগার্টেন ও সোনারতরী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের কর্তৃপক্ষকে আর্থিক জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন খুলনার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান। এর আগে ২০১৬ সালের শেষ দিকে খুলনায় কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেন স্থানীয় প্রশাসন।
খুলনা কোচিং সেন্টার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও শিক্ষাসাগর কোচিংয়ের পরিচালক শ্যামল কুমার রায় বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী এক মাস কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণে কিছু কিছু ব্যাচ ও কোচিং কৌশলে চলার প্রমাণ পেয়েছে। সেগুলো বন্ধ করার নির্দেশও দিয়েছে তারা। তবে যে সকল কোচিং ব্যাচ কৌশলে চলছে সেগুলো বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
খুলনা জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, কোথাও কোনো কোচিং ও ব্যাচ চালু রাখার তথ্য পেলেই অভিযান চালানো হবে। কোচিং ও ব্যাচের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।