জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক কার্বন মার্কেটে বাংলাদেশের কার্যকর প্রবেশাধিকার বাড়াতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে তাঁর অফিসকক্ষে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকসের এক দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে এই বার্তা দেওয়া হয়। বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউএনডিপির মধ্যকার বিদ্যমান পরিবেশগত উন্নয়ন অংশীদারিত্ব পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারণের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশের অর্থায়ন পরিকল্পনা (BIOFIN), নিম্ন-কার্বন উন্নয়ন সহায়ক ন্যাশনাল কুলিং প্ল্যান (NCP), পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর বিষয়টিতেও বিশেষ আলোকপাত করা হয়।
বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু ঝুঁকির দিক থেকে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি। তাই আমাদের অভিযোজন সংক্রান্ত কর্মযজ্ঞকে বাস্তবমুখী, স্থানীয় প্রেক্ষাপটনির্ভর এবং দৃশ্যমান ফলাফলভিত্তিক করতে হবে। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি অক্ষুণ্ণ রাখাই বর্তমানের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের ক্ষতিকর প্রভাব সামলাতে বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে। তবে ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলা ঝুঁকি সামাল দিতে সহজ শর্তে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন, উন্নত প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তর ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি একান্ত প্রয়োজন। তিনি ইউএনডিপির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম অভিযোজন প্রক্রিয়ায় তৃণমূল জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় সরকার কাঠামোর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন। তিনি উপকূলীয় এলাকা, হাওর, পার্বত্য অঞ্চল, দুর্গম চরাঞ্চল এবং খরাপ্রবণ বরেন্দ্র এলাকার মতো অতি-সংকটাপন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (Nature-based Solutions) এবং সহনশীল জীবিকা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু অঙ্গীকার (NDC) পূরণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তহবিল ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউএনডিপির কারিগরি ও কূটনৈতিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হন।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগে সংস্থাটির অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, প্রকৃতি সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ, জলবায়ু অর্থায়ন আহরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সক্ষমতা তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে মিল রেখেই কাজ করবে ইউএনডিপি। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও সাধারণ নাগরিকদের সমন্বয়ে সফল মডেলগুলো দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ইউএনডিপি প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাবে।
বৈঠকে চলমান যৌথ প্রকল্পগুলোর গতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি বায়ু দূষণ রোধ, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রশমন, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার এবং কার্বন ক্রেডিটের নতুন নতুন সম্ভাবনাময় খাত উন্মোচনের বিষয়ে যৌথ সম্মতি প্রকাশ করা হয়।
এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং ইউএনডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।