শিরোনাম :
তীব্র তাপপ্রবাহে ইতালিতে মৃত ৫, তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা মিনাবের বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ‘প্রকৃত দায়ী কে, তা হয়তো জানা যাবে না’ পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, নিহত ১৬৪ গাজায় শিশু হত্যাকে যুদ্ধাপরাধ বলছে জাতিসংঘ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তারেক রহমানের সফরে কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন গতি আসবে বাংলাদেশি নির্মাতার প্রথম চলচ্চিত্রেই আন্তর্জাতিক পুরস্কার টেকসই উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের নতুন পথ খুঁজছে দাভোস ফোরাম ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী চীনা রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ১৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানে ভেনামি চিংড়ি হতে পারে নতুন চালিকাশক্তি

‘কানেক্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি সার্বজনীন নির্দলীয় সংগঠনের প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৮ জুন, ২০১৮
  • ফজলুর রহমান

মাতৃভুমি বাংলাদেশের ভূখণ্ড ছেড়ে আমরা প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি বিভিন্ন কারণে ও উদ্দেশ্যে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছি। অন্ন-সন্ধানে হউক, পড়াশোনা বা অন্যান্য কারণেই হউক, উদ্দেশ্য আমাদের মূলত একটাই। আরও উন্নত জীবনের সন্ধানে, সচ্ছলতা ও নিরাপত্তা অর্জনে, ছুটে চলেছি আমরা পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। নাম আমাদের “প্রবাসী”। দেশের ভেতরে সচরাচর আমরা “বিদেশী” নামেই পরিচিত। আর বিদেশে আমরা, Expatriate, Diaspora community, জার্মানিতে Ausländer, অন্যান্য দেশে Foreigners, আল- মিসকিন, Asyl, রিফিউজি বা অন্য কোন নামে পরিচিতি লাভ করেছি। আমরা যারা দীর্ঘদিন থেকে প্রবাসে আছি, তাঁদের দেশে কিংবা বিদেশে কোথাও স্বদেশ বলতে কিছু থাকছে না।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা বাংলাদেশী প্রবাসীদের মত, নিজ দেশের ভেতরে এত অবহেলিত জনগোষ্ঠী, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। চিন, ভারতসহ এই উপমহাদেশের সবক’টি দেশই সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তাঁদের নিজ দেশের নাগরিক অধিকার সমুন্নত রেখেছে। বিশ্বের যেখানেই তাঁর বসবাস হউক না কেন। হাতে গোনা কিছু সংখ্যক প্রিভিলেজড বাংলাদেশের প্রবাসী ছাড়া, বাকি প্রায় সকলেই দেশের মাটিতে পা রাখার পর থেকে দেশ ছাড়ার পূর্ব পর্যন্ত, নানারকম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, আপনি আপনার মাতৃভূমি নিয়ে ভাবতেও পারবেন না। আপনাকে বলা হবে ” মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি” আরে স্বার্থপরের মতো দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, দেশ নিয়ে আপনাদের এত দরদ কেন। বিদেশে পড়ে আছেন, ওখানেই থাকুন। দেশ নিয়ে আপনাদের এত ভাবতে হবে না। আপনি বলবেন; ভাই, আমাদের রেমিটেনস ছাড়া দেশ চলবে কি করে? উত্তর পাবেন; আরে, ওসব আবার দেশের সাথে কি সম্পর্ক? আপনি টাকা পাঠাচ্ছেন আপনার পরিবারের সদস্যদের জন্য, তা দেশের কি করছেন? এখন আপনি কি জবাব দেবেন! এসব কথা বলার লোকের অভাব নেই দেশে।
কিন্তু, বাস্তবতাটা কি? প্রবাসীরা কি দেশে টাকা পাঠান? আমি বলবো না, আমরা টাকা পাঠাই না। আমরা পাঠাচ্ছি বৈদেশিক মুদ্রা। যা না হলে, আপনি কাগজের নোট “টাকা” ছাপাতে পারবেন না, আর বৈদেশীক বাণিজ্যের (ট্রেড-পেমেন্ট ) অর্থ পরিশোধ, যা বৈদেশিক মুদ্রায় দিতে হবে, তাও সম্ভব হবেনা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (foreign currency), প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেনস গুলোই নেট রিজার্ভে চলে যায় । আর অন্যান্য রপ্তানি খাতের (রফতানি বাণিজ্য) বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় অংশ আবার এল সি (back to back L/C) এর মাধ্যমে বিদেশে চলে যায়।
দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, পরবাসে কেউ কেউ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের শরীরের রক্ত পানি করে, বছরে চৌদ্দ বিলিয়ন ডলারের মত বিশাল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ভীত মজবুত করছেন, তাঁরা নিজ দেশে এত অবহেলিত হবেন কেন! শুধু তাই নয়। প্রবাসীরা যিনি যে অবস্থায়ই আছেন, এক একজন গড়ে অন্তত পাঁচজন স্বজনদের অন্ন-বস্ত্র- বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা-দীক্ষার দায়ভার গ্রহণ করেছেন। এতে অন্তত পাঁচ কোটি মানুষ, তুলনামূলক ভাবে ভালো অবস্থানে বেচে আছেন।
প্রবাসীরা-এর ঊর্ধ্বে, নিজ নিজ এলাকায় নানারকম সামাজিক উন্নয়নেও বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, চিকিৎসা সেবাসহ ক্রিড়া-সাংস্কৃতিতেও তা দৃশ্যমান।
তাছাড়া সুযোগ পেলে, স্বদেশে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন, এমন প্রবাসীদের সংখ্যাও এখন কম নয়।
এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে, প্রবাসী বিদ্বেষী আচরণ করা কি ঠিক? ক্ষতিটা হবে কার, দেশের না প্রবাসীদের? এই প্রশ্নগুলো তো যুক্তি সংগত কারণেই। সামনে এসে যায়। তাহলে, সমাধানটা কী? প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী থেকে শুরু করে, সমাজের বিভিন্ন স্তরে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার আজ ক্ষুন্ন ও প্রশ্নবিদ্ধ। কষ্টার্জিত সম্পদের কারণেও, ধাপে ধাপে হচ্ছেন তাঁরা লাঞ্ছিত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত। টাকা-পয়সা, জমিজমা আত্মসাতের পাশাপাশি, অনেকেই জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেন না। কোন কোন ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে ।
অন্যদিকে, প্রবাসে ষাট-সত্তর ভাগেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পোহাতে হচ্ছে নানারকম দুর্ভোগ। অমানবিক পরিশ্রম, নির্যাতন, আর মানবেতর জীবনযাপন করছেন এমন অনেকেই আছেন আপনার আমার আশেপাশে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে, বাংলাদেশী শ্রমিক, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের উপর অমানবিক নির্যাতন, আমাদের অনেকেরই জানা আছে। নারীদের উপর এমন কিছু কিছু লোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে, যা মানবতার সকল জয়গানকে ম্লান করে দেয়। প্রতিদিন দলে দলে নারী শ্রমিক নির্যাতীত লাঞ্ছিত-বঞ্চিত ও নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে আসছেন। তাঁদের জন্য আমাদের নেই কোন সহায়ক উদ্যোগ, নেই কোন সরকারি ব্যবস্থাপনা। প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়ক ভূমিকা পালনে বাংলাদেশের দুতাবাসগুলো নীরব-নির্বিকার। জার্মানির মত দেশেও, কোন জরুরি কাজের জন্য সপ্তাহ ধরে চেষ্টা করেও কাউকে ফোনে পর্যন্ত পাওয়া যায় না। এমন উদাহণের আমি নিজেও একজন সাক্ষী। (চলবে)
লেখক: জার্মান প্রবাসী, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, কানেক্ট বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD