মানব জীবনের অন্তরাত্মার সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে সাহিত্য ও সংস্কৃতির স্পর্শে। আর শব্দের সাথে শব্দের মাধুর্যময় বুননে সৃষ্টি হয় সেই স্বপ্নীল জগৎ।
“আমাদের গল্পঘর” তেমনি একটি সাহিত্য ও সংস্কৃতির নান্দনিক সংগঠন। একেকজন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থেকেও একই বন্ধনে জড়িয়ে থাকার এক নিবিড় বন্ধুত্বের মেলবন্ধন। এখানে নবীন ও প্রবীণদের সমাগম যেন স্বপ্নের বেলাভূমিতে অবাধ বিচরণ। এখানে নীরবে নিভৃতে জমে থাকা সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটে স্বমহিমায়।
শুধু সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা-ই নয়, বাংলাদেশের অজপাড়াগাঁয়ে অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত, নিঃস্ব, হতদরিদ্র, শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকসহ কিছু নিবেদিত প্রাণ প্রবাসী বাঙালি। যাঁরা দূরে থেকেও হৃদয়ে অনুভব করেন অসহায় মানুষের কষ্টের আহাজারি।
এ উদ্দেশ্যকে বুকে লালন করেই গঠিত হয়েছে “স্বপ্নতারা”।
করোনা’র তাণ্ডবে সারা পৃথিবী যখন টালমাটাল, অযাচিত ভয় আর মৃত্যুর সংশয়ে মানুষ যখন দূর্বিষহ, ঠিক তখনই ” আমাদের গল্পঘর” ফেইসবুক গ্রুপ থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ “গল্পঘরের কাব্যকথা”। অতঃপর মানুষে মানুষে সৃষ্টি হলো দূরত্ব। মানুষের প্রতি মানুষের অনাস্থা, অবিশ্বাস, সন্দেহ, সংশয়, নিষ্ঠুরতা, অমানবিকতা, পাশবিকতার কালো মেঘে ছেয়ে গেলো সমস্ত আকাশ, ঘনীভূত মেঘ ম্লান করতে চললো চাঁদের আলোকে।
এমতাবস্থায় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ
” মেঘে ঢাকা চাঁদ” সম্পাদনা করতে পেরে সৃষ্টিকর্তার কাছে গভীরভাবে শুকরিয়া আদায় করছি। সকল বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে পৃথিবীর কালো মেঘ একদিন বলাকার মতো উড়ে গিয়ে চাঁদের আলো প্রকটিত হয়ে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ একদিন ফুলের মতো প্রস্ফুটিত হবেই। জাগ্রত হবে মানুষের বিবেক। সত্যের আলোয় আলোকিত হবে পৃথিবী।
এ কাব্যগ্রন্থটিতে নবীন ও প্রবীণ কবিদের ভাবনায় যে বিশাল দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, নিঃসন্দেহে তা প্রশংসার দাবিদার। আশা করি গ্রন্থটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে যুগ যুগ ধরে ভাবনার খোরাক হয়ে থাকবে।
এ কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনায় ও প্রকাশের জন্য সর্বোত্তমভাবে সহযোগিতা করেছেন – দিলশাদ জাহান খান , শীলু জামান, রাজীব মেহবুব, রিমা খান এ্যানী, তাদের প্রতি রইলো আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আরো বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই বন্ধু সংগঠন বাঙালীর শব্দ বুনন কে।
এডমিন ও মডারেটর প্যানেলে আমার সহযোদ্ধা বন্ধুদের এবং “আমাদের গল্পঘর”এর সকল সদস্যবৃন্দের প্রতি রইলো আমার হৃদয় নিংড়ানো গভীর ভালোবাসা।
পরিশেষে, “মেঘে ঢাকা চাঁদ” যদি কবিতা প্রেমী পাঠক হৃদয়ে কিছুটা স্থান পায়, তবেই আমাদের সকল শ্রম সার্থক হবে। আমরা অনুপ্রাণিত হবো, কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবো পথ চলার আগামী দিন গুলোতে।