জাতিসংঘের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় সহযোগিতায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং প্রত্যাবাসন ‘অবশ্যই সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সমস্যাটি আরও জটিল রূপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ দ্রুতই এই সংকট থেকে মুক্তি পাবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’র দ্বিতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আদৌ সম্ভব কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “অবশ্যই সম্ভব।” সরকার বিশ্বাস করে, আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর সহায়তা এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে এ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা যাবে। তিনি জানান, প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি সক্রিয় রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দীর্ঘ সময়ে প্রত্যাবাসন ঝুলে থাকায় সমস্যা ক্রমেই জটিলতর হচ্ছে জানিয়ে তিনি দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কোনো কারাগার স্থাপনের উদ্যোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে বলেন, “না, এ রকম কোনো প্রস্তাব নেই।” কারা অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট করেন, “আমার নলেজে নাই। সে রকম আলাদা কারাগারের কোনো প্রস্তাব নেই।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্রের উপস্থিতি বর্তমানে প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পে নানাবিধ সাধারণ অপরাধের ঘটনাও ঘটছে। এসব অপতৎপরতা রুখতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মূলত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) নেতৃত্বে বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এপিবিএনের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ব্যাটালিয়নে কর্মরত প্রায় ৪০০ জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে অপরাধ তদন্তের আনুষ্ঠানিক আইনি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগে তাদের তদন্তের ক্ষমতা না থাকলেও এখন থেকে তারা ক্যাম্পের অপরাধসমূহের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করতে পারবেন।
ক্যাম্পের পাশ্ববর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী এক সমন্বয় সভায় আলোচনা শেষে ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে দুটি বিশেষ সেনা ক্যাম্প স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় / সচিবালয় বিফ্রিং।