সম্পাদকীয়:
সম্প্রতি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ সংকেত। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠেছে, এবং বিশ্ব যেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ নিহত, শহর ধ্বংস, শিশু ও নারীসহ অসংখ্য বেসামরিক মানুষ প্রতিকূলতার শিকার হচ্ছেন। মানবতার চরম অবক্ষয় এখন দৃশ্যমান।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিশ্ব নেতারা দেরি করছেন। শান্তি বজায় রাখতে এবং সংঘাত রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা মানব ইতিহাসে লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে লেখা হবে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কর্তৃত্ববাদী মনোভাব, নিজেদের স্বার্থবোধে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের উপেক্ষা, এবং মধ্যপ্রাচ্যের জনগণকে রাজনৈতিক খেলনার মোহর হিসেবে ব্যবহার—সবই পৃথিবীর জন্য দুঃসংবাদ।
বিশ্ব নেতাদের করণীয় একটাই স্পষ্ট: আগুন নেভাতে দৃঢ় ও সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ, অস্ত্রের নির্গমন বন্ধ করা, এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করা। প্রতিটি দেশের জনগণকে রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব, এবং জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে শক্তিশালীভাবে মধ্যস্থতা করতে হবে।
এ সময় আমাদের মনে রাখতে হবে, সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে চলা এই সংঘাত শুধু ইরানের সমস্যা নয়; এটি মানবতার সমস্যার অন্তর্গত। যদি আমরা এখনই সচেতন না হই, তাহলে শুধু এক দেশ নয়, সমগ্র বিশ্বই অগ্নিগর্ভে পতিত হবে। শান্তি ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সকলের।
বিশ্বকে এখনই জাগতে হবে, আগুন নেভাতে হবে, এবং মানুষের জীবনকে অস্ত্রের খেলা থেকে মুক্ত করতে হবে। নইলে ইতিহাস আমাদেরকে কখনো ক্ষমা করবে না।