আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আজ ৮ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম–মুনিরা খান মিলনায়তনে তরুণদের নিয়ে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদ এবং সংগঠন উপ-পরিষদের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল— “শুধু সমাজসংস্কারক নয়, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ”। এতে পক্ষ ও বিপক্ষ দুই দলের তরুণ বিতার্কিকরা যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে রোকেয়ার কর্মজীবন, চিন্তা, দর্শন ও নারী জাগরণে তাঁর অবদান তুলে ধরেন।
বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, প্রকাশনা সম্পাদক সারাবান তহুরা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা আফরোজ। তাঁদের মতে, তরুণদের এই যুক্তিপূর্ণ আলোচনা শুধু রোকেয়ার ভাবনা তুলে ধরেনি, বরং যুক্তিবাদী ও সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের পথও সুস্পষ্ট করেছে।
বক্তারা রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের বহুমাত্রিক কাজের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি শুধু সমাজসংস্কারক নন, বরং নারী শিক্ষার বিস্তার, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন, সংগঠন গড়ে তোলা, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা—এসব ক্ষেত্রেই তিনি পথপ্রদর্শক। বর্তমান সময়ে নারী বিদ্বেষী প্রচারণা ও বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে রোকেয়াকে নতুন করে অনুধাবন করা জরুরি বলেও মত দেন বক্তারা।
প্রতিযোগিতায় পক্ষ দল বিজয়ী হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহামুদ খালিদ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবে পুরস্কৃত হন অর্ণব রায় পার্থ এবং ফজলে রাব্বী সরকার। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সেরা তিনজন হলেন মারওয়া জান্নাত মাইশা, মুবিনা আক্তার মুন ও উম্মে ফাতেমাতুজ যোহরা।
অনুষ্ঠানে একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ই–পোস্টার প্রতিযোগিতার ৯ জন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।
প্রতিযোগিতা শেষে তরুণদের অংশগ্রহণ ও যুক্তিবাদী মানস গঠনে বিতর্কের ভূমিকা তুলে ধরে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়। সঞ্চালনা করেন রীনা আহমেদ।