শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকে শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং নৈতিক নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হতে হবে— যাতে তারা দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রবিবার গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৭তম সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. আবরার বলেন, শিক্ষা কোনো ব্যয় নয়— এটি শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানবসম্পদে বিনিয়োগ। বাংলাদেশ সরকার সমতা, মানোন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই— এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের দক্ষ, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রদেরও স্মরণ করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “তোমাদের জন্য শিক্ষা একটি আমানত। এটি মানবকল্যাণে, নৈতিকতা ও উদ্ভাবনের পথে ব্যবহার করো। বিশ্বাস হোক তোমার দিকনির্দেশনা, জ্ঞান হোক তোমার আলো, সহমর্মিতা হোক তোমার শক্তি।”
ড. আবরার বলেন, আইইউটি হলো ওআইসি কর্তৃক বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একমাত্র আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়। সরকার সবসময় আইইউটির পাশে থাকবে এবং এর উন্নয়ন ও সাফল্যে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
সমাবর্তনে ওআইসির সহকারী মহাসচিব (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি) হিজ এক্সেলেন্সি অ্যাম্বাসেডর আফতাব আহমেদ খোখের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সাবেক অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে ওআইসি প্রতিনিধি, কূটনীতিক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংস্থাটির সদস্যদেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আইইউটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবর্তনে শতাধিক শিক্ষার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।