শিরোনাম :
টেকসই প্রবৃদ্ধিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা ২৮তম শাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামল রেলওয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পাঁচ বছরে ২৪ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে ইতিহাস গড়লেন মেসি, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে অভিযোগ: ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, আরও দুজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সুরের মিলনমেলা, দুই দিনের আয়োজন শেষ করল সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ফ্রান্সে রেকর্ড দাবদাহে দুই দিনে প্রাণ গেল ১৮ জনের নতুন এল নিনোর প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা, উষ্ণ হতে পারে ২০২৭ সাল সাড়ে তিন মাস পর হরমুজ প্রণালি পেরোল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয়, নকআউট নিশ্চিত করল নরওয়ে

ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে আন্তর্জাতিক নিন্দা

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫

ইউরোপের পাঁচটি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি সংগঠন সম্প্রতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এ রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

লন্ডনভিত্তিক এসব সংগঠনের জোট জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার ব্যুরো, ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশন এবং কমনওয়েলথ সচিবালয়সহ একাধিক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। তাদের বক্তব্য—বাংলাদেশে বিচারকার্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়; বরং সাম্প্রতিক রায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

জোটটির দাবি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার মূল ন্যায়নীতি থেকে সরে গেছে। তারা উল্লেখ করে যে সাম্প্রতিক কিছু মামলার পরিচালনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী। বিশেষ করে, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড প্রদান, প্রতিরক্ষা সাক্ষ্যের পর্যাপ্ত সুযোগ না দেওয়া এবং তড়িঘড়ি বিচার কার্যক্রম এসব উদ্বেগের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ধরনের প্রক্রিয়া কেবল সন্দেহই বাড়ায় না, বরং বিচারব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থাকেও দুর্বল করে।

সংগঠনগুলো রায়ের ক্ষেত্রে সংবিধানিক বৈধতার ঘাটতি, যথাযথ আইনি প্রতিনিধিত্বের অভাব, রাজনৈতিক চাপের প্রভাব ও উপযুক্ত প্রমাণের ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে। তারা মনে করে, যে আদালত ন্যায়বিচারের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল, সেটিই এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশের মানবাধিকার রেকর্ড ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ইউরোপীয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক, ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স, সাউথ এশিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফোরাম এবং জার্মানির ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ—এই পাঁচটি সংগঠনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্বাধীনতার ন্যূনতম মানদণ্ডও আজ প্রশ্নবিদ্ধ। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রবন্ধটির সারমর্ম হলো—ট্রাইব্যুনালের রায় শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও মানবাধিকার কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত। আন্তর্জাতিক সমাজের উদ্বেগ দেখিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের জন্য এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD