আজ থেকে ১০ বছর আগেও জার্মানি ছিল বহিরাগত তথা প্রবাসীদের জন্য কঠিন একটি দেশ। জার্মান সংবিধানে প্রথম দিকে লেখা ছিল জার্মানি কোন বিদেশীদের দেশ নয়। কিন্তু কালের বিবর্তনে জার্মানি হয়ে উঠেছে ইউরোপের বিদেশি অধিবাসী তথা প্রবাসীদের অন্যতম প্রধান একটি দেশ। জার্মানিতে প্রবাসী বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এখানকার জন্মগ্রহণ পদ্ধতি ও জার্মান শিল্পের অগ্রগতি।
গত ৫০ বছর ধরে জার্মানি শিল্প ও অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়ে আসছে। এই সমৃদ্ধ অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে জনবল প্রয়োজন।অন্যদিকে জার্মানিদের মধ্যে সামাজিকভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতার হ্রাস। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৩০ বছরের ভিতরে জার্মানিতে জার্মান (জাতী) শূন্য হয়ে পড়বে।বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখে জার্মান সরকার বহিরাগতদের জার্মানিতে আসার স্বাগত জানাচ্ছে।

এই সূত্র ধরে প্রবাসীরা ধীরে ধীরে জার্মানিতে নাগরিকত্ব পাচ্ছে ও তাদের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। তবে বহিরাগতদের জার্মানিতে রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের সংখ্যা খুব কম। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতদের সরাসরি জার্মানির রাজনীতিতে অংশগ্রহণ তেমন নেই বললেই চলে।
জার্মানির মাইনজ শহরে প্রায় ৪৫ বছর ধরে
বসবাস করছেন বাংলাদেশী প্রবাসী ইউনুস আলী খান। জার্মানির অন্যতম রাজনৈতিক দল খৃীষ্ট ডেমোক্রেটিক ইউনাইটেড (সিডিইউ) দলের সাথে ২০১০ সাল থেকে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ইউনুস আলী খান আগের কমিটিতে মাইনসে সহ-সভাপতি ও বর্তমান কমিটিতে এই দলের কোষাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন।
জার্মানিতে ১০ই নভেম্বর যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে সেখানে তিনি সিডিইউ দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি জার্মান ও জার্মান প্রবাসী সকলের কাছে দোয়াপ্রার্থী।

৪৫ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে এসে ইউনুস আলী খান জার্মানির রাজনীতিতে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করেন। বৈদেশিকদের প্রতিনিধি পদে তিনি সিডিইউ দল থেকে প্রার্থী হয়েছেন। ইউনুস আলী খানের সাথে আলবেনিয়া, ইতালি, ফ্রান্স ও অন্যান্য দেশের প্রবাসীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হয়েছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি জার্মানিতে সুপরিচিত। তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীপ্রার্থী। নির্বাচনে তার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।