চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)-র কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরো, ২৭ ফেব্রুয়ারিত (শুক্রবার) বেইজিংয়ে, একটি সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিসি’র সাধারণ সম্পাদক ও দেশের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।
সভায় চীনের চতুর্দশ জাতীয় গণকংগ্রেসের চতুর্থ অধিবেশনে পর্যালোচনার জন্য, রাষ্ট্রীয় পরিষদের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার রূপরেখার খসড়া’ এবং ‘সরকারি কার্যবিবরণী’ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বলা হয়, চতুর্দশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সময়কাল ছিল অসাধারণ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার কঠিন দায়িত্বের মুখোমুখি হয়ে, সি চিন পিংকে কেন্দ্র করে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি, পুরো পার্টি, দেশের জনগণ, ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধভাবে নেতৃত্ব দিয়ে, সাহসের সাথে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে এবং সামনে অগ্রসর হয়েছে। উক্ত সময়ে করোনা মহামারির গুরুতর আঘাত মোকাবিলা করা হয়েছে এবং একাধিক বড় ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে সামাল দেওয়া হয়েছে, যার ফলে পার্টি ও দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন বড় সাফল্য অর্জন করেছে।
সভায় আরও বলা হয়, পাঁচ বছরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে, চতুর্দশ পাঁচসালা পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য ও কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি, এবং সামগ্রিক জাতীয় সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। চীনা বৈশিষ্ট্যের আধুনিকায়ন দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়েছে এবং দ্বিতীয় শতবর্ষীয় লক্ষ্য অর্জনের নতুন যাত্রা সফলভাবে শুরু হয়েছে।
সভায় বলা হয়, পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সময়কাল হলো সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়ন মৌলিকভাবে অর্জনের ভিত্তি দৃঢ় করা এবং সার্বিক অগ্রগতি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে বৈজ্ঞানিকভাবে পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার রূপরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, উন্নয়নের সুবিধাগুলো সুসংহত ও সম্প্রসারণ করা, প্রতিবন্ধকতা দূর করা, এবং দুর্বল দিকগুলো শক্তিশালী করা—এসব দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উচ্চমানের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে এবং সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়নের মৌলিক বাস্তবায়নের জন্য আরও দৃঢ় ভিত্তি স্থাপনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় জোর দিয়ে বলা হয়, আরও সক্রিয় আর্থিক নীতি ও উপযুক্ত শিথিল মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখতে হবে এবং সংস্কার পদক্ষেপ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে; একটি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বাজার গড়ে তোলা, নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি দ্রুত বিকাশ করা এবং উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন ত্বরান্বিত করতে হবে; গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কার আরও গভীর করতে হবে, উচ্চমানের উন্মুক্ততা সম্প্রসারণ করতে হবে, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন এগিয়ে নিতে হবে এবং নতুন ধরনের নগরায়ন ও আঞ্চলিক সমন্বিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে; জনগণের জীবনমান সুরক্ষা ও উন্নয়ন আরও জোরদার করতে হবে; সবুজ রূপান্তর দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঝুঁকি প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে হবে; এবং একই সাথে সরকারের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সঠিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ধারণা প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
সূত্র:শিশির-আলিম-আনন্দী,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।