ছবি : ইন্টারনেট
ইরানের চলমান বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করা হলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার নির্দেশও দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেন, নিজ দেশের জনগণ যখন উন্নত জীবনমানের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে, তখন যদি ইরানি নেতৃত্ব তাদের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়নে যায়, তবে ট্রাম্প প্রশাসন চরম পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না—এমনকি তা দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও হতে পারে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য ইরান হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খ্যাতনামা মার্কিন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক জেফ্রি ডি স্যাকস। তার মতে, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের অতিমাত্রায় আগ্রহ বিশ্বকে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সাক্ষ্য দেওয়ার পর ইন্ডিয়া টুডে গ্লোবালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেফ্রি স্যাকস যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যাকে ‘রুলস-বেইজড অর্ডার’ বলে প্রচার করে, বাস্তবে তা আর কার্যকর নয়। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি ‘রোগ স্টেট’ বা নিয়ন্ত্রণহীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে সামরিক শক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্যাকস আরও দাবি করেন, প্রায় আট বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার নেতাদের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন—যুক্তরাষ্ট্র কেন সরাসরি ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায় না। তার মতে, এতে বোঝা যায়, এ ধরনের সামরিক পরিকল্পনা অনেক আগেই শুরু হয়েছিল।
ইরান প্রসঙ্গে সবচেয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা দেন জেফ্রি স্যাকস। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান হলে পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের কাছে আধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং দেশটি এমন এক ভূরাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর স্বার্থ সরাসরি জড়িত। ফলে সেখানে যুদ্ধ শুরু হলে তা সহজেই বৈশ্বিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে।
স্যাকসের দাবি অনুযায়ী, নতুন বছরের সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের মার-আ-লাগোতে বৈঠক থেকেও ‘ইরান হতে পারে পরবর্তী লক্ষ্য’—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে অর্থনৈতিক দাবিতে হওয়া বিক্ষোভ দমনে সংযম দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সশস্ত্র ‘দাঙ্গাকারীদের’ স্পষ্টভাবে আলাদা করার আহ্বান জানান। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এই নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছে ইরান সরকার।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ফক্স নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি, এএফপি