সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলার দুই নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড, এক নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনা ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি পালন করেছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি সেই নির্দেশ পালন করেছেন।
রায়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামাল এবং সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোন আলাপ, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর প্রাণঘাতী গুলি প্রয়োগের বিষয়গুলো। এছাড়া হেলিকপ্টার থেকে ‘ছত্রী সেনা নামানো’ ও বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যা সংক্রান্ত অডিও-ভিডিও প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল জানায়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন ভিডিও, ফোনালাপ ও সাক্ষীর বিবরণ যাচাই করে আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানসহ (যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুর) গুলি চালিয়ে হত্যার প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত।
রায় ঘোষণার কার্যক্রম সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয় এবং এটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও অন্যান্য প্রচার মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।