মাদক সেবন ও বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় প্যানেল মেয়রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার ভোর ছয়টার দিকে পৌরসভার কাগদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। শরীয়তপুর পৌরসভার ২ নম্বর প্যানেল মেয়র আলমগীর হোসেন মৃধাকে মাথায় ও পায়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
মাদক সেবন ও বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা সূত্র জানায়, শরীয়তপুর পৌরসভার ২ নম্বর প্যানেল মেয়র আলমগীর হোসেন মৃধা স্থানীয় কাগদি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। আজ ভোরে প্রাতর্ভ্রমণে যাওয়ার সময় তাঁর বাড়ি থেকে ৬০০ মিটার দূরে দক্ষিণ কাগদি এলাকার জাকির মাদবরের দোকানের সামনে সন্ত্রাসীরা আলমগীরকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। হাতুড়ি দিয়ে তাঁর মাথা ও পায়ে আঘাত করা হয়। ওই এলাকার শাহাজালাল ব্যাপারী, সাদ্দাম শেখ ও শাহাজালাল মাদবর এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন মেয়রকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সকাল নয়টার দিকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, মাদকের কবল থেকে সমাজের মানুষকে বাঁচানোর জন্য কাগদি এলাকায় মাদক নির্মূল কমিটি নামে একটি কমিটি করা হয়। প্যানেল মেয়র আলমগীর হোসেন ওই কমিটির সভাপতি। তিনি গ্রামের মানুষকে নিয়ে মাদক ও জুয়াবিরোধী নানা কর্মসূচি পালন করতেন। এ নিয়ে একটি চক্রের সঙ্গে তাঁর বিরোধ রয়েছে। এর জেরে আজ ওই চক্রের সদস্যরা তাঁর ওপর হামলা করে।
কাগদি গ্রামের বাসিন্দা শরীয়তপুর সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র এস এম স্বাধীন বলেন, মেয়র আলমগীরের হাত ধরে গ্রামের মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন করছে। এমন পরিস্থিতিতে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের তাঁর ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। অপরাধীদের যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় আনার দাবি করেন তিনি।
আহত আলমগীর হোসেনের ভাই নয়ন হোসেন জানান, তাঁর ভাইয়ের মাথার আঘাত গুরুতর। বড় হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করার কারণে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। মাদক বিস্তারের প্রতিবাদ করার কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর থেকেই শাহাজালাল ব্যাপারী, সাদ্দাম শেখ ও শাহাজালাল মাদবর এলাকা থেকে পালিয়েছেন। কাগদি গ্রামে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্যানেল মেয়রের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে তারা মাদক দ্রব্য বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে যুক্ত। তারা একাধিকবার মাদক দ্রব্যসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে।
ওসি জানান, ঘটনার পর থেকেই ওই যুবকেরা এলাকা থেকে পালিয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।