২০২৭ সালে আফ্রিকা মহাদেশে অনুষ্ঠেয় আইসিসি পুরুষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৪তম আসরকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন উন্মাদনা। টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখনো সময় বাকি থাকলেও ব্যালট পদ্ধতি চালুর পর থেকেই টিকিটের চাহিদা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্বকাপের টিকিট ক্রয়ের সুযোগ পেতে বিশ্বজুড়ে মোট ১২ কোটি ৮০ লাখ ৯ হাজার ৪৬৭টি আবেদন জমা পড়েছে।
আইসিসি জানায়, বিশ্বের ১৯৩টি দেশের প্রায় ২৮ লাখ স্বতন্ত্র সমর্থক টিকিটের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন এবং ম্যাচভিত্তিক নিবন্ধনের সংখ্যা ৩ কোটি ২০ লাখ অতিক্রম করেছে। টিকিটের প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের মধ্যে। তিন সহ-আয়োজক দেশ—দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া ছাড়াও পুরো আফ্রিকা মহাদেশ থেকেই এসেছে প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখের বেশি আবেদন। এর মধ্যে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার আটটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠেয় ৪১টি ম্যাচের জন্য জমা পড়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখের বেশি আবেদন। স্বাগতিক দলটির নিজস্ব ১১টি ম্যাচের জন্য আবেদন পড়েছে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ।
জিম্বাবুয়ের ম্যাচগুলোর জন্য আবেদন সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ। এর মধ্যে ভিক্টোরিয়া ফলসের নতুন ‘মোসি-ও-তুনিয়া’ স্টেডিয়ামে ২৪ অক্টোবরের ভারত বনাম জিম্বাবুয়ে ম্যাচের জন্য এককভাবে ৩৩ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। প্রথমবারের মতো আইসিসির বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাওয়া নামিবিয়ার উইন্ডহুকের ন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৬টি ম্যাচের জন্য ২০ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ৮ অক্টোবরের ইংল্যান্ড বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের আবেদনই প্রায় ৯ লাখ।
বরাবরের মতোই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার লড়াই। আগামী ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মহারণের জন্য জমা পড়েছে ৮৩ লাখ ৯৭ হাজার ২৯৪টি আবেদন। একই ভেন্যুতে ২১ নভেম্বরের ফাইনাল ম্যাচের জন্য আবেদন এসেছে প্রায় ৭৯ লাখ। আইসিসির ইভেন্ট ও ক্রিকেট অপারেশনস প্রধান গৌরব সাক্সেনা জানান, এই বিপুল সাড়াই প্রমাণ করে ২৪ বছর পর আফ্রিকায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত শতভাগ যথার্থ ছিল। আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত টিকিট ব্যালটের আবেদন উন্মুক্ত থাকবে এবং অতিরিক্ত চাহিদার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ লটারির মাধ্যমে টিকিট বরাদ্দ করা হবে।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) মিডিয়া রিলিজ।