পশ্চিম ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে এবং এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুতির প্রায় পুরোটাই ঘটেছে গত দুই মাসের মধ্যে। সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়।
আইওএম জানিয়েছে, গৃহহীন হয়ে পড়া এসব পরিবার এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে চরম সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে এবং মৌলিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ মেটাতে পারছে না। একই সাথে সংঘাতকবলিত অঞ্চলে চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর পক্ষে চরম অভাবগ্রস্তদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাস্তুচ্যুত মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে ইয়েমেনে আইওএম-এর মিশন প্রধান আব্দুসাত্তর এসোয়েভ জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধের পর ইয়েমেনি পরিবারগুলো পুনরায় নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। প্রায় ক্ষেত্রেই তাদের সঙ্গে পরনের কাপড় ছাড়া অন্য কোনো সম্বল থাকছে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে তাদের জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও চিকিৎসা সেবা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক তহবিল নিশ্চিত করা না গেলে হাজার হাজার পরিবার জীবন রক্ষাকারী জরুরি মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম বিপদে পড়বে।
প্রসঙ্গত, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে গত জুলাই মাসে বিদ্যমান সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে গৃহযুদ্ধে হামলার তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং দেশটিতে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে।
তথ্যসূত্র: জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও আল জাজিরা।