ফ্রান্সের তরুণ সমাজের চলমান আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় এবার সুইজারল্যান্ডের প্রধান দুই শহর জুরিখ ও বাসেলে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংস বিক্ষোভ। অনুমতিহীন এই বিক্ষোভ সমাবেশে ব্যাপক ভাঙচুর, বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জুরিখের লাংস্ট্রাসে (Langstrasse) শত শত আন্দোলনকারী জড়ো হন। তাঁদের অনেকের মুখে হ্যালোইনের মুখোশ পরা ছিল। সেখান থেকে প্রধান রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী হেলভেটিয়াপ্লাজের (Helvetiaplatz) দিকে পদযাত্রা করার সময় জনতা তীব্র মাত্রায় আতশবাজি ও ফ্লেয়ার ফোটাতে থাকে। স্কয়ারে পৌঁছার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা একটি বাস স্টপ ভাঙচুর করে এবং ময়লার ডাস্টবিন ও সাইকেল জড়ো করে তৈরি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও ডাস্টবিনে আগুন দেয় এবং বেশ কয়েকটি দোকানের কাচ গুঁড়িয়ে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বারবার আতশবাজি, কাচের বোতল ও পাথর নিক্ষেপ করে। এর জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে, যা রাত দেড়টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এমনকি পা মারাত্মক জখম হওয়া এক কিশোরকে উদ্ধারে যাওয়ার সময় পুলিশের একটি জরুরি চিকিৎসা টহল গাড়ির ওপরও হামলা চালানো হয়, ফলে পুলিশ পেছনে সরে যেতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে বাসেল শহরে রাত ৯টার দিকে প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারী কেন্দ্রস্থলে সমবেত হন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর মিছিলটি ‘মিটলেরে রাইনব্রুক’ পার হয়ে মার্কটপ্লাজ হয়ে সেন্ট জোহান জেলায় প্রবেশ করে। সেখানেও আবর্জনার পাত্র ও ধাতব ব্যারিকেডে অগ্নিসংযোগ করা হলে পুলিশ হস্তক্ষেপে নামে। আয়োজক ও আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেনজি রেজাল্ট!’ বা ‘জেন জির হাতে নিয়ন্ত্রণ!’ স্লোগান ব্যবহার করে ফ্রান্স ও জার্মানির তরুণ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
তথ্যসূত্র: সুইস কান্টোনাল পুলিশ প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম উইওন (WION)।