সার, চিনি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পসহ মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। মঙ্গলবার রাতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত চলতি বছরের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৯তম সভায় এসব প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি পৃথক প্রস্তাবের আওতায় উন্মুক্ত ই-জিপি দরপত্র পদ্ধতিতে ৫০ কেজির বস্তায় মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত চিনি কেনার সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাবে ৫ হাজার টন চিনির ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রতি কেজি ১০২ টাকা ৯৫ পয়সা) এবং দ্বিতীয় প্রস্তাবে সমপরিমাণ চিনির মূল্য ধরা হয়েছে ৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রতি কেজি ১০৩ টাকা ৯৫ পয়সা)। উভয় প্রস্তাবেই অনুমোদিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড।
এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের তৃতীয় সংশোধিত প্রস্তাবের সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রকল্পটির মূল চুক্তিমূল্য ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা থেকে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ভেরিয়েশন বৃদ্ধি পেয়ে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। এ কাজটি বাস্তবায়নে যৌথভাবে রয়েছে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সমন্বয়ে গঠিত ‘এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’। একই প্রকল্পের পরামর্শক সেবা সংক্রান্ত আরেক প্রস্তাবে ৪০৫ কোটি টাকা ভেরিয়েশনসহ চুক্তিমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৬ কোটি ৭১ লাখ টাকায়। এ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে যৌথ উদ্যোগী প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোয়েই, ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্টস এবং বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস।
কৃষি উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে বড় অঙ্কের সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস থেকে ২২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় (প্রতি টন ৪৪৬.৬৭ ডলার) ৮০ হাজার টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে ২৭৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় (প্রতি টন ৫৩১.৬৭ ডলার) ৪২ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির কার্যোত্তর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার জেএসসি প্রডিনটর্গ থেকে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ টাকায় (প্রতি টন ৩৮৩.৮০ ডলার) ৩৫ হাজার টন এমওপি এবং কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের সাথে জিটুজি ভিত্তিতে যথাক্রমে ৮০ হাজার ও ৪০ হাজার টনের দুটি লটে এমওপি সার (প্রতি টন ৩৮২.৩৮ ডলার) আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। সৌদি আরবের এমএ’এডেন থেকে ৪২৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে (প্রতি টন ৮৬১.৫০ ডলার) পঞ্চম লটে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আনার প্রস্তাবও পাস হয়েছে।
জ্বালানি খাতে জিটুজি ভিত্তিতে ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত সময়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ‘জেকেএম-০.১০’ ডলার দরে মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কক্সবাজারের মহেশখালীতে জিটুজি পদ্ধতিতে কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনে চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির (সিএনইই) দাখিল করা দর প্রস্তাব প্রত্যাহার করেছে কমিটি। উল্লেখ্য, ১৫ বছর মেয়াদে এ প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন ছিল প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এবং ২০ বছর মেয়াদে প্রায় ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।
সূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।