দেশের সামগ্রিক ভূমি সেবাকে শতভাগ স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প’-এর যাবতীয় কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে এবং সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কাজের সর্বোচ্চ গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প, ডেটা এন্ট্রির অগ্রগতি এবং শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা (লার্নিং)’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় তাঁরা এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর যৌথ উদ্যোগে সভাটি আয়োজিত হয়।
সভায় অংশ নিয়ে ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য মো. আতিকুল হক ও মো. কামাল হোসাইন প্রকল্পের কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রান্তিক ভূমি মালিকদের দ্রুত সেবার আওতায় আনা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভূমি প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। ডেটা এন্ট্রি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিতে ইউএনডিপি সার্বিক কারিগরি সহায়তা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে বলে তাঁরা আশ্বস্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ‘ল্যান্ড ডেটা ডিজিটালাইজেশন ফর ইনক্লুসিভ গ্রোথ ফর ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অটোমেশন প্রজেক্ট’-এর ওপর একটি বিশদ প্রজেক্টরভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসাইন এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ ক্লাস্টারের সিনিয়র ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ও সাবেক মহাপরিচালক আতিকুল হক। এতে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি-জুন ২০২৫ (প্রি-পাইলট), আগস্ট-ডিসেম্বর ২০২৫ (পাইলট) এবং ফেব্রুয়ারি-আগস্ট ২০২৬ (দ্বিতীয় পর্যায়) মেয়াদে ঢাকা বিভাগের ৩টি জেলার ৩২টি উপজেলা বা সার্কেলের ১১২টি ভূমি অফিসে সফলভাবে অটোমেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
সভায় প্রকল্পের মূল কার্যক্রমগুলো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের জন্য বিশেষায়িত পেশাগত প্রশিক্ষণ, ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিস পর্যায়ে নিখুঁত ডেটা ম্যাপিং, উপজেলা ভূমি অফিস থেকে প্রচলিত ম্যানুয়াল নামজারি খতিয়ানের কপি সংগ্রহ, হোল্ডিং ও খতিয়ান ডেটা যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন এবং চূড়ান্ত নির্ভুল তথ্য সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তিকরণ। এ ছাড়া সাধারণ ভূমি মালিকদের ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরিতে সহায়তা দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে ৫ দিনব্যাপী বিশেষ সেবা ক্যাম্প পরিচালনার উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
ভূমি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব এমদাদুল হক চৌধুরী যৌথভাবে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও অগ্রগতি গুরুত্বসহকারে শোনেন। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ডিজিটালাইজেশনের সুফল যেন প্রতিটি নাগরিকের দোড়গোড়ায় পৌঁছায় এবং কার্যক্রমে যাতে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম না থাকে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সতর্ক ও তৎপর থাকতে হবে।
সূত্র: ভূমি মন্ত্রণালয় ও ইউএনডিপি বাংলাদেশ।