ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক সংযোগের কারণে তেহরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ, যা মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে। পাকিস্তানে উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং ইরানে নিয়মিত তীর্থযাত্রা দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে দৃঢ় করেছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং আফগান ইস্যুতে দীর্ঘদিনের সমন্বয়ও পারস্পরিক আস্থাকে জোরদার করেছে। এসব কারণে ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই অনুকূল পরিবেশ কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান দুই প্রতিপক্ষকে আলোচনায় বসাতে পেরেছে, যা চলমান সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে শান্তি প্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চয়তার মুখে। বিশেষ করে লেবাননকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। পাকিস্তানের দৃষ্টিতে, এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন, বিশেষত ইসরায়েলকে সংযত রাখার ক্ষেত্রে। অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের মতে, মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনার পথ খুলে দিতে সক্ষম হয়েছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমাধান নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর। এখন গোটা বিশ্ব অপেক্ষা করছে ইসলামাবাদের সম্ভাব্য সংলাপের ফলাফলের জন্য, যা সফল হলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।