ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এক মাসে পা দিতেই উপসাগরীয় অঞ্চলে গভীর মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিরতায় অঞ্চলজুড়ে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানায়, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং বাণিজ্য প্রবাহে বিঘ্ন ঘটার ফলে আরব দেশগুলো সম্মিলিতভাবে ১২০ থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জিডিপি হারাতে পারে। বিশেষ করে তেলনির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য এই ক্ষতি হবে মারাত্মক, যা তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর কার্যত অচলাবস্থাকে দায়ী করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। প্রণালীতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যার প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়ছে।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব আবদুল্লাহ আল-দারদারি পরিস্থিতিকে “অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ধাক্কা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, যে মাত্রার দারিদ্র্য বৃদ্ধি সাধারণত কয়েক বছরে ঘটে, তা এখানে মাত্র এক মাসেই দৃশ্যমান হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি খাতে এই অস্থিরতার প্রভাব শ্রমবাজারেও পড়বে। বেকারত্বের হার বাড়তে পারে প্রায় ৪ শতাংশ, ফলে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে জিসিসি ও লেভান্ট অঞ্চলের দেশগুলোতে জিডিপি হ্রাসের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই সংকট আরও গভীর হবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।