শিরোনাম :
সস্তা রুশ তেল নাকি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক, দিল্লির সামনে ক্রমেই জটিল সমীকরণ ইতালির স্কুলে হিজাব-বোরকা নিষিদ্ধের উদ্যোগ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও আসছে সীমা অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণে চীনা কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা চায় অ্যাঙ্গোলা সৌরশক্তি ও পশুপালনের সমন্বয়ে গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন পথ সরকারি চাকরিতে নতুন বেতনকাঠামো, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা মাদক কেনার টাকা জোগাড়ে ২০ মাসের শিশুকন্যাকে বিক্রির অভিযোগ সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে অপ্রতিম হত্যা তদন্তে অগ্রগতি, উদ্ধার আইফোন দেশের ৩৭ জেলায় বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

পুতিনের ভারত সফর: ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যেও অটুট নয়াদিল্লি–মস্কো সম্পর্ক

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রায় চার বছর পর প্রথমবারের মতো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুদিনের এই সফরে পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক, বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই করবেন।

সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমাতে চাপ দিয়ে আসছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে ভারতের তেল আমদানির মাত্র ২.৫ শতাংশ ছিল রাশিয়া-নির্ভর, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়ার দেয়া মূল্য ছাড় ভারতকে ক্রমশ মস্কো-ঘনিষ্ঠ করে তুলেছে, যা মার্কিন নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

রাশিয়া–ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। ভারতের বর্তমান অস্ত্রাগারের ৬০ শতাংশের বেশি রাশিয়া-নির্ভর। এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নয়াদিল্লির সামরিক সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এবার রাশিয়া সুখোই-৫৭ স্টিলথ ফাইটার জেট এবং অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির প্রস্তাব রাখবে, যা শীর্ষ সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিনের এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার সুযোগ নয়; বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাশিয়ার একটি বার্তা—মস্কো এখনো বিচ্ছিন্ন নয়। মোদিকে পাশে পাওয়া পুতিনের কূটনৈতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করবে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের চাপ সামলাতে গিয়ে ভারত তার দীর্ঘদিনের রাশিয়া-বন্ধুত্বকে নতুনভাবে ভারসাম্যপূর্ণ রাখার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির প্রভাব এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির অস্থিরতার মধ্যেেও রাশিয়া–ভারত সম্পর্ক বহুমাত্রিক সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।

মোটকথা, পুতিনের এই নয়াদিল্লি সফর শুধুমাত্র কূটনৈতিক শুভেচ্ছা বিনিময় নয়—এটি দুই পরাশক্তির সঙ্গে ভারতের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা নির্ভরতার বাস্তবতা এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বরাজনীতির নিখুঁত প্রতিচিত্র।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD