অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টের সিনেটের স্পিকার সু লাইনস এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মিল্টন ডিকএর আমন্ত্রণে, চীন জাতীয় গণকংগ্রসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান চাও ল্য চি, ২২ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সেদেশে রাষ্ট্রীয় সফর করেন।
সফরকালে তিনি ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর-জেনারেল ডেভিড হার্লির সঙ্গে দেখা করেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ আয়োজিত ওয়ার্কিং ব্রেকফাস্টে যোগ দেন, এবং সিনেট স্পিকার সু লাইনস ও হাউস স্পিকার মিল্টন ডিকের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ডেভিড হার্লির সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা পৌঁছে দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্ট সি এবং অস্ট্রেলিয়ার নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায়, চীন–অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক আবারও স্থিতিশীল ও ইতিবাচক উন্নয়নের সঠিক পথে ফিরে এসেছে। চীন ও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক, বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তি মজবুত, এবং সম্ভাবনাও বিশাল। চীন অস্ট্রেলিয়ার সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা আরও গভীর করতে এবং একটি আরও স্থিতিশীল ও ফলপ্রসূ সার্বিক কৌশলগত অংশিদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
জবাবে ডেভিড হার্লি বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও চীন বাণিজ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, ইত্যাদি বহু ক্ষেত্রে ভালো সহযোগিতা করে আসছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমাগত গভীর হচ্ছে। চীন ২০২৬ সালের এপেক সম্মেলন আয়োজন করবে, যা বহুপক্ষবাদে অবচিল থাকা ও ত্বরান্বিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সম্মেলনের সফলতা প্রত্যাশা করেন। অস্ট্রেলিয়া সবুজ অবকাঠামো, জ্বালানি রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, ও নারী অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সাথে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
অ্যান্থনি আলবানিজ আয়োজিত ওয়ার্কিং ব্রেকফাস্টে চাও ল্য চি বলেন, চীন–অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংলাপ ও সহযোগিতা পুনরায় শুরু হওয়াকে দু’দেশের নানান মহল ব্যাপকভাবে স্বাগত ও সমর্থন জানিয়েছে। চীন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে মৌলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধ নেই। চীন শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে অটল থেকে, উচ্চ মানের উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ও উচ্চ স্তরের বৈদেশিক উন্মুক্তকরণ সম্প্রসারিত করছে এবং অস্ট্রেলিয়াসহ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক কল্যাণকর সহযোগিতা ও উন্নয়নের সুযোগ ভাগাভাগি করতে ইচ্ছুক।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি ও খনিজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নবায়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, অবকাঠামো, ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সংহত ও গভীর করা প্রয়োজন। তাইওয়ান, হংকং, সিচাং, সিনচিয়াং ও দক্ষিণ চীন সাগর বিষয়গুলো চীনের ভূখণ্ড ও কেন্দ্রীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অস্ট্রেলিয়া চীনের আবস্থান বুঝবে ও সম্মান করবে।
অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া–চীন সম্পর্কের ভিত্তি দৃঢ়। অস্ট্রেলিয়া চীনের সাথে সহযোগিতা জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আগামী বছর চীনের এপেক সম্মেলন আয়োজনকে সমর্থন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া–চীন বাণিজ্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, আর পর্যটন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের তরুণরা ভিন্ন সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা নিতে পারছে। এতে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া চীনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল উন্নয়নের ধারায় রাখতে আগ্রহী।
সূত্র: শিশির-আলিম-মুক্তা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।