ভারতের জম্মু ও কাশ্মির অঞ্চলে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কার্যক্রম মানবাধিকার মানদণ্ড লঙ্ঘন করছে বলে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞ। তাদের দাবি, অনেক নাগরিককে নির্বিচারে আটক রাখা হচ্ছে এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে বেশ কিছু মানুষকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতির বিরোধী। এই নীতি অনুযায়ী, এমন কোনো ব্যক্তিকে সেই দেশে ফেরত পাঠানো যায় না, যেখানে তার জীবন, স্বাধীনতা বা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেন, জম্মু ও কাশ্মিরে বহু বছর ধরে চলমান অধিকার লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতা আরও তীব্র হয়েছে। তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়—ইরফান মেহরাজ, খুররম পারভেজসহ অঞ্চলের পরিচিত কয়েকজন মানবাধিকারকর্মী দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা আইনের আওতায় আটক রয়েছেন।
তাদের দাবি, যেসব নাগরিককে অভিযোগ ছাড়া বা পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে, তাদের তৎক্ষণাৎ ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান অনুসারে সংশোধনেরও আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অজুহাতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ শুধু মৌলিক মানবিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করে না; এটি সমাজে বিভাজনকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায় এবং ভবিষ্যতে নতুন করে সহিংসতার সুযোগ সৃষ্টি করে।
তারা আরও বলেন, এ সংক্রান্ত সব অভিযোগ স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি, এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় এনে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
কাশ্মির সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করাই একমাত্র পথ বলে মনে করেন জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: ইউএন, আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড