সম্পাদকীয়:শরৎ আসলেই বাঙালির প্রাণ জাগে অন্যভাবে। নীল আকাশ, শুভ্র কাশফুল আর শিউলির সুবাস যেন আগাম বার্তা দেয় দেবী দুর্গার আগমনের। শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার নয়; এটি এক মহাসাংস্কৃতিক মিলনমেলা, যেখানে মিলেমিশে যায় আনন্দ, ভক্তি ও সাম্যের বাণী।
দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন আসলে এক প্রতীকী মহিমা বহন করে। মহিষাসুরের বিনাশ যেমন অশুভ শক্তির পরাজয়কে নির্দেশ করে, তেমনি মানুষের অন্তর্গত অসুরকেও জয় করার আহ্বান জানায় এই উৎসব। পূজা তাই কেবল দেব-দেবীর বন্দনা নয়, বরং মানুষের হৃদয়ে সুন্দরের জয়গান।
আজকের বিশ্বে যখন বিভাজন, হিংসা ও অসহিষ্ণুতার ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে, তখন দুর্গোৎসব আমাদের শেখায়—অশুভের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের পাঠ। পূজার মণ্ডপে ছোট-বড়, ধনী-গরিব, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে মানুষের সমাগম আসলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন। এখানে সবাই একসঙ্গে উৎসবে শরিক হয়, ভোগের অর্ঘ্য ভাগাভাগি করে খায়, মিলনমেলায় আনন্দে মেতে ওঠে।
এ উৎসবের আরেকটি দিক হলো শিল্প-সংস্কৃতির উজ্জ্বল প্রকাশ। পূজামণ্ডপে শিল্পীর হাতের নিপুণ ছোঁয়া, ঢাকের বাদ্য, ধুনুচি নাচ কিংবা আগমনী গানের সুর—সবই আমাদের ঐতিহ্যের ধারক। প্রবাসে থেকেও বাঙালিরা এই পূজা পালন করে তাদের শিকড়ের সঙ্গে অটুট সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে।
তবে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি দায়িত্বও ভুলে গেলে চলবে না। পরিবেশবান্ধব পূজা আয়োজন, অপচয় রোধ এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজকের যুগে অপরিহার্য। পূজা যেন আনন্দের পাশাপাশি মানবিকতারও উৎসব হয়—সেই চেতনা জাগ্রত করাই সময়ের দাবি।
অতএব, শারদীয় দুর্গোৎসব হোক জীবনের সব অন্ধকার দূর করে আলোর, শুভ শক্তির আর মানবতার জয়ধ্বনি। দেবী দুর্গার আবাহনে আমাদের হৃদয় হোক উদার, সমাজ হোক সাম্যের এবং মানবতা হোক সর্বজনীন।