মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড শহরে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে প্রয়োজনে ‘পূর্ণ শক্তি’ প্রয়োগেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।
বিবিসি ও তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার বার্তায় উল্লেখ করেন, পোর্টল্যান্ডে অবস্থিত আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ভবনকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অ্যান্টিফা এবং অন্যান্য দেশীয় সন্ত্রাসীরা ওই স্থাপনাটিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন তার প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযানে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিভিন্ন শহরে ফেডারেল ভবন ও জননিরাপত্তা রক্ষায় সেনা মোতায়েন বাড়ানো হচ্ছে। এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানো হয়েছিল। মেমফিসেও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পোর্টল্যান্ডে অবস্থিত আইসিই ভবনের বাইরে গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত বিক্ষোভ হচ্ছে। ফেডারেল এজেন্ট ও প্রতিবাদকারীদের মুখোমুখি অবস্থান প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় নেতারা পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানালেও শহর কর্তৃপক্ষ ভবনটি বন্ধের দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, অনুমোদিত নিয়ম না মেনে সেখানে আটক রাখার ঘটনা ঘটছে, যা ভূমি ব্যবহার নীতির লঙ্ঘন।
ট্রাম্প এখনো স্পষ্ট করেননি, কোন ধরনের সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। তবে এর আগে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে সহিংসতা দমনে মেরিন সেনা পাঠিয়েছিলেন।
দেশের “উগ্র বামপন্থীদের” বিরুদ্ধে তার রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট বারবার পোর্টল্যান্ডকে নিশানা করে আসছেন। প্রায় ২৫ লাখ মানুষের এ শহরের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি, আনাদোলু।