ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্রায় সব পদেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। বুধবার সিনেট হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।
২৮টি কেন্দ্রীয় পদে অনুষ্ঠিত ভোটে জোট বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করলেও মাত্র পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের মধ্যে সামাজিক সেবা সম্পাদক পদে জুবাইর বিন নেছারী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সানজিদা আহমেদ তন্বী বিজয়ী হন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে হেমা চাকমা ও উম্মু উসওয়াতুন রাফিয়া জয় পান।
অন্যদিকে, ভাইস-প্রেসিডেন্ট, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ সব কৌশলগত পদে শিবির জোট নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মো. আবু সাদিক ১৪,০৪২ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে এসএম ফরহাদ ১০,৭৯৪ ভোট পান, যা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বিগুণ। সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহা. মহিউদ্দিন খানও প্রায় একই ব্যবধানে বিজয়ী হন।
বাকি ২০টি সম্পাদকীয় পদে জোট প্রার্থীরা বিশাল ভোটে জয়লাভ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা ১০,৬৩১ ভোটে এগিয়ে থাকেন। মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক পদে সাখাওয়াত জাকারিয়া সর্বোচ্চ ১১,৭৪৭ ভোট পান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন ইকবাল হায়দার এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়ী হন আরমান হোসাইন।
সাধারণ সদস্য পদে জোটের ১১ জন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে সাবিকুন্নাহার তামান্না সর্বোচ্চ ভোটে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছেন সর্বমিত্র।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এবারের নির্বাচনে ৩৯ হাজার ৮৭৪ ভোটারের মধ্যে নারী ভোটার ছিলেন ১৮,৯৫৯ এবং পুরুষ ভোটার ২০,৯১৫ জন। ডাকসুর ২৮টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ৪৭১ প্রার্থী। একইসঙ্গে হল সংসদ নির্বাচনে ১,০৩৫ জন প্রার্থী ২৩৪টি আসনের জন্য লড়েছেন।