আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে অংশ নেবেন। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংজু শহরে অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় এপেক বৈঠকে অংশ নেবেন ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা। যদিও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এটি উভয় দেশের জন্য বড় কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানান, সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পগুলো প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগ আনার প্রচেষ্টাও এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
এশিয়া সফরের সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং ইতিমধ্যেই তাকে এপেক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে কিম বৈঠকে যোগ দেবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
ট্রাম্প নিজেও সাংবাদিকদের কাছে কিমের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা দেখা করব, কথা বলব এবং সম্পর্ক আরও উন্নত করব।”
তবে এ সফরটি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে শি জিনপিংয়ের আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে কিম, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অংশ নেন। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প সমালোচনা করলেও দাবি করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনো ভালো রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক বর্তমানে বাণিজ্যিক উত্তেজনায় ঘেরা। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে, যার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বেইজিংও মার্কিন পণ্যে শুল্ক বসায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প সাময়িকভাবে শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন।
সূত্র: এনডিটিভি, সিএনএন।