মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির জবাবে ভেনেজুয়েলা উপকূলে ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে কারাকাস।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় জানান, ক্যারিবীয় উপকূলে নজরদারির জন্য বড় আকারের ড্রোন বহর নামানো হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় জলসীমার উত্তরে নতুন যুদ্ধজাহাজও টহল দেবে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তিনটি যুদ্ধজাহাজের একটি উভচর ইউনিট ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি পাঠায়। সোমবার আরও দুটি জাহাজ—একটি গাইডেড মিসাইল ক্রুজার ও একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন—ক্যারিবীয় সাগরে পৌঁছেছে। এতে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যাদের মধ্যে ২২০০ নৌবাহিনীর সদস্য।
ওয়াশিংটন অভিযোগ করছে, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেল্লো আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের সঙ্গে জড়িত। এ অভিযোগে মাদুরোর বিরুদ্ধে ঘোষিত পুরস্কার বাড়িয়ে ৫০ মিলিয়ন ডলার এবং কাবেল্লোর বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাদুরো পাল্টা দাবি করেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্যই এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
নিজের টেলিভিশন বক্তব্যে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় কোকা বা কোকেন উৎপাদন নেই; বরং যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে মাদক সেবন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে অন্যদের দায়ী করছে। তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তিন লাখ মিলিশিয়া সদস্য ও প্রায় ১৫ হাজার সেনা ভেনেজুয়েলা-কলম্বিয়া সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার সেনারা সম্প্রতি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এমন কিছু জাহাজঘাট ধ্বংস করেছে, যেখানে অপরাধীরা আধা-ডুবোজাহাজ ও মাদক পরিবহনের নৌকা তৈরি করছিল। জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষত পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন মোতায়েনকে সরাসরি ভয় প্রদর্শনের কৌশল হিসেবে নিন্দা জানানো হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।