চিপ নির্মাতা জায়ান্ট ইন্টেল তাদের শেয়ারের প্রায় ১০ শতাংশ মার্কিন সরকারের হাতে তুলে দিতে সম্মত হয়েছে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইন্টেল যৌথভাবে এই চুক্তির ঘোষণা দেন।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোম্পানির ৪৩৩.৩ মিলিয়ন সাধারণ শেয়ার পাবে, যা মোট মালিকানার প্রায় ৯.৯ শতাংশের সমান। এ বিনিয়োগের মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ৮.৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার আসবে বাইডেন প্রশাসনের সময় গৃহীত চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট–এর অনুদান থেকে, যা এখনো বিতরণ করা হয়নি। বাকি ৩.২ বিলিয়ন ডলার আসবে সিকিউর এনক্লেভ প্রোগ্রাম–এর আওতায় প্রদত্ত পুরস্কার থেকে। ইন্টেল আরও জানায়, পূর্বে পাওয়া ২.২ বিলিয়ন ডলার যোগ করলে মোট অনুদানের অঙ্ক দাঁড়াবে ১১.১ বিলিয়ন ডলার।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির মাধ্যমে ইন্টেলের ১০ শতাংশ মালিক হয়ে গেলেও কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি লেখেন, ইন্টেলের সিইও লিপ-বু ট্যানের সঙ্গে বৈঠকের পর এ চুক্তি সম্ভব হয়েছে। তবে কোম্পানি স্পষ্ট করেছে, সরকারের শেয়ার মালিকানা “নিষ্ক্রিয়” থাকবে—তাদের কোনো বোর্ড সদস্য বা ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এক্স-এ লিখেছেন, “এই চুক্তি মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের নেতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।” তবে সমালোচকরাও মুখ খুলেছেন। প্রযুক্তি বিশ্লেষক রব এন্ডারলে সতর্ক করেছেন, সরকারের শেয়ার মালিকানা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। কেটো ইনস্টিটিউটের গবেষক স্কট লিনসিকোম বলেন, “এ সিদ্ধান্ত প্রায় সবার জন্য ক্ষতিকর এবং ইন্টেলের ভবিষ্যৎ স্থায়িত্বের জন্য হুমকি।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এশিয়ার টিএসএমসি ও স্যামসাংয়ের কাছে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে ইন্টেল। মার্কিন কংগ্রেস পাশ করা চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট ছিল দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা, যার আওতায় বিলিয়ন ডলারের অনুদান বরাদ্দ করা হয়।
ইন্টেল সিইও লিপ-বু ট্যান এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রেই উৎপাদিত হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কারখানা সম্প্রসারণে ইতোমধ্যেই ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।
তবে চুক্তির ছায়ায় বিতর্কও রয়েছে। মাসের শুরুতে জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্যানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। এদিকে, জাপানের সফটব্যাংক সম্প্রতি ইন্টেলে আলাদাভাবে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।