বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, সরকার পরিচালনায় এনজিও বা করপোরেট স্টাইল প্রয়োগ করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তিনি বলেন, “আপনি যদি সরকারকে করপোরেট হিসেবে দেখেন, সেটা একরকম; আর যদি এনজিওর মতো পরিচালনা করেন, সেটা পুরোপুরি ভিন্ন। করপোরেট ও এনজিও নীতির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।”
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ মান্থলি ম্যাক্রো ইকোনমিক ইনসাইট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার।
অর্থনীতি ও তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. মঈন বলেন, “কর-জিডিপি অনুপাত অনেক কম—এ নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন, তবে আমি নই। কারণ, দেশের বেশিরভাগ মানুষই প্রকৃত অর্থে আয়কর দেওয়ার অবস্থায় নেই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের প্রকৃত মূল্যস্ফীতির তথ্য সরকার প্রকাশ করে না। “যখন পণ্যের দাম বাড়ে, তখন তারা দাম কমার তথ্য দেয়। অথচ দেশের মানুষের ৬০-৭০ শতাংশ ব্যয় চলে যায় খাদ্য ও বাড়িভাড়ায়, সেটিও সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয় না।”
ড. মঈনের মতে, বাংলাদেশ একটি আমদানি নির্ভর অর্থনীতি। টাকার মান কমে গেলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় এবং তার প্রভাব পড়ে মূল্যস্ফীতিতে।
জিডিপি হিসাব নিয়ে কারসাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “একজন কর্মকর্তা জিডিপির হিসাব কারসাজিতে রাজি না হওয়ায় তাকে থাপ্পড় দেওয়া হয়েছিল। আমরা মনে করি, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ঘোষিত ১০ শতাংশ গড় মূল্যস্ফীতির হার বাস্তব নয়।”
সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হয় যে, বিএনপি একমাত্র দল যারা সংস্কারের বিরোধিতা করে। অথচ আমরাই ৩১ দফা সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছি এবং সেই আন্দোলনের সূচনা আজ থেকে দুই বছর আগে।”