“আমরা আর কাউকে স্বৈরাচার হতে দেবো না— এটাই আমাদের অঙ্গীকার”—বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে এবং পরে পীরগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা একটি স্বৈরাচারী সরকারকে সরিয়েছিলাম। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে থাকবে না বৈষম্য, ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাস।”
তিনি বলেন, “দেশের ছাত্র-যুব-তরুণরাই বারবার এই দেশকে বাঁচিয়েছে। এবারও তারাই ২০২৪-এ স্বাধীনতা রক্ষা করেছে। তবে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা কঠিন। তাই আমাদের আরও সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
উত্তরবঙ্গের অবহেলার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫৪ বছরেও উত্তরবঙ্গের কৃষকরা ন্যায্য দাম পায় না। অথচ এই কৃষকের সন্তানরাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, তারাই এই গণঅভ্যুত্থান শুরু করেছিল। আমরা এই কৃষকদের পাশে থাকতে চাই।
সীমান্ত হত্যা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের সীমান্তে বাংলাদেশিদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। আমরা স্পষ্ট করে দিতে চাই—এটা হাসিনার বাংলাদেশ নয়, এটা ছাত্র-জনতার বাংলাদেশ। সীমান্ত হত্যা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা দালালি নয়, মর্যাদার সঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশ চাই। আমাদের চাওয়া খুবই সাধারণ— ভাত, কাজ, চিকিৎসা ও শিক্ষা। এটাই আমাদের রাজনৈতিক দাবি।”
তিনি আরো বলেন, “আগামী ৩ আগস্ট আমরা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির রূপরেখা ঘোষণা করবো। ২৪ সালের এই দিনে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলাম, এবার থাকবে মুক্তির ইশতেহার।”
পদযাত্রায় আরো উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনীম যারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।