যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সফররত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ভোটের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর ক্ষোভ ঝাড়তে শুরু করেছেন এনসিপি নেতারা।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিনদিন পর মুহাম্মদ ইউনূস ৮ আগস্ট ফ্রান্স থেকে ঢাকায় আসেন। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতারা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান। সেদিন রাতেই তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
যুক্তরাজ্যে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকের পর যে যৌথ বিবৃতি এসেছে, তাতে যারপরনাই ক্ষুব্ধ জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
প্রধান উপদেষ্টার যে বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, তাতে ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা ভুলে গেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শুক্রবার যুক্তরাজ্যে আলোচিত এই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নির্বাচনে একমত হয়েছেন বলে বিএনপির তরফে বক্তব্য এসেছে।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফেসবুকে ক্ষোভ ঝেড়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “জুলাই সনদের পূর্বে নির্বাচনের মাস আর তারিখ নিয়ে কথা বলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়বদ্ধতা ভুলে যাওয়ার নামান্তর।”
ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠককে ইতিবাচকভাবে দেখার কথা জানিয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক বলেন, “জাতীয় ঐকমত্যের প্রশ্নে, দেশের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে সকল রাজনৈতিক দলের এমন সুসম্পর্কই কাম্য।”
হাসনাত বলেন, “হতাশার বিষয় বৈঠকে নির্বাচনের মাস ও তারিখ যেভাবে গুরুত্ব পেয়েছে, অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকাঙ্খা বিচার ও সংস্কার সেভাবে প্রাধান্য পায়নি।”
লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন।
এই সরকার শুধুমাত্র নির্বাচন দেয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো রূপ নয় বলে মন্তব্য করে এনসিপি নেতা বলেন, “বরং একটি অভ্যুত্থানের উপর দাঁড়িয়ে, দেশের মানুষের অসংখ্য ত্যাগের উপর দাঁড়িয়ে জনগণের আশা আকাঙ্খার কাছে দায়বদ্ধ একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।”
জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ, মৌলিক সংস্কার, দৃশ্যমান বিচার এবং নির্বাচনকেন্দ্রীক প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনই জাতীয় নির্বাচনের পূর্বশর্ত বলেও স্মরণ করিয়ে দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
জুলাই সনদ রচনার পরেই নির্বাচন বিষয়ক আলোচনা চূড়ান্ত হওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।
দেশের স্থানীয় পর্যায়ে এরইমধ্যে চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব, প্রশাসনকে প্রভাবিত করা, পেশিশক্তির প্রদর্শনসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা দৃষ্টান্ত প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত। তিনি বলেন, “এই অবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। যেটা নির্বাচনের অন্যতম আরেকটি পূর্বশর্ত।”
নির্বাচনের মাস এপ্রিল কিংবা ফেব্রুয়ারি যেটাই হোক না কেনো, তার চেয়ে মুখ্য বিষয় হচ্ছে নির্বাচনের পূর্বে জুলাই সনদ, দৃশ্যমান বিচার এবং মৌলিক সংস্কার গুলো হচ্ছে কিনা”, লেখেন এনসিপি নেতা।
পাটওয়ারীর কটাক্ষ
হাসনাত আব্দুল্লাহ পোস্টে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কমেন্টটি দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো।
তিনি লেখেন, হাসনাত, ভোটে জেতা এতো সহজ? মেম্বার ইলেকশন করলেও তো জিতবা না। আগে মেম্বার ইলেকশনে জিতে দেখাও।”
হাসনাত পাল্টা কমেন্টে লেখেন, “আপনাদের সরকারকে মেম্বার ইলেকশন দিতে বলেন আগে।”
তাতে ফারুক আজম আল মাহমুদ আবার হাসির ইমোজি দিয়ে লেখেন, “সম্পর্ক বদলে গেল নাকি?”