আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
লেখক মাহাবুব আলম লাবু :গতকাল অফিস থেকে ফিরেই দেখি এক আত্মীয় বসে আছেন। তিনি তাঁর মেয়ের বিয়ের দাওয়াত দিতে এসেছেন। বললেন ভাই আমার প্রথম মেয়ের বিয়ে আপনি অব্যশই যাবেন। এর আগেও দুদিন এসে ফিরে গেছি আপনাকে পাইনি। তাই আজ এসে বসে আছি নিজ হাতে আপনাকে কার্ড দিবো বলে। আমি বললাম কি আর করবো ভাই, ঢাকা শহরে যে ট্রাফিক তাতে জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জিজ্ঞেস করলাম তা বিয়ে কবে? সে বলল, আগামীকাল বাদ জুম্মা। আপনার অফিস বন্ধ, আবার ৮ই মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। বলেই প্রশ্ন করে বসলো ভাই বিশ্ব নারী দিবস কি, কেন পালন করা হয়? আমি তাকে সংক্ষেপে বলে বুঝাবার চেষ্টা করলাম ১৮৫৭ সালে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকারী বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়।
আচ্ছা ভাই আমাদের ধর্মে নারী দিবস সম্পর্কে কি বলে? আমি বললাম ধর্মের সাথে নারী দিবসের কোন যোগসূত্র নেই। এই দিবসটি সামাজিক বৈষম্যের কারণে উদ্ভুত একটি পরিস্থিতি, যেমন আমাদের ভাষা আন্দোলন। কিন্তু ইসলাম নারীর অধিকার আর সম্মানকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছে, এরজন্য কোন দিবসের প্রয়োজন নেই। ইসলামের শুরুই হয়েছিল অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে আলোর পথকে উন্মোচন কররার প্রয়াশে। কোরআনে করিমের সুরা নাহল এর ৫৮-৫৯ নাম্বার আয়াতে এর উল্লেখ রয়েছ তাদের কাউকে যখন মেয়ে জন্মের সংবাদ দেওয়া হয় তখন তার চেহারা কালো হয়ে যেত। দুঃখ-চিন্তায় ব্যথিত হয়ে পড়ত। কন্যা সন্তানের সংবাদটিকে এতই খারাপ সংবাদ মনে করত যে, নিজেকে লোকজনের থেকে গোপন রাখতে থাকে আর চিন্তা করতে থাকে যে, লজ্জা শরম ও অবমাননা সহ্য করে মেয়েটিকে রাখবে, না তাকে মাটির নিচে জীবন্ত কবর দিবে। তাদের এহেন অপরাধের জন্য তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে “When the female (infant), buried alive, is questioned –
For what crime she was killed;।-সূরা তাকভীর, আয়াত : ৮-৯।
আজকাল নারী যে বৈষম্য, নারী প্রতি অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার তাঁর জন্য ধর্ম দায়ী না দায়ী আমরা, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। অথচ সুরা নেসার ১৯ নাম্বার আয়াতে নারীদের ভাল ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ইসলামের পূর্বে নারীরা তাদের স্বামীর মৃত্যুর পর তাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার পেত না। ইসলামই মেয়েদের সম্পদের মালিক হবার অধিকার দিয়েছে। পুরুষদের হুকুম দেয়া হয়েছে বিয়েতে মেয়েদের মোহরানা দেবার জন্য।
আচ্ছা তুমি কি জান, রাসুল সাঃ এর নবুওত প্রাপ্তি পর কে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহন করেন? সে বলল, সঠিক জানি না ভাই। তবে সম্ভবত উনার চাচাতো ভাই হযরত আলী রাঃ। আমি বললাম, না তা ঠিক নয়, তিনি কোন পুরুষ নন, তিনি একজন নারী। খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ রাসুল সাঃ প্রথম স্ত্রী। তুমি কি বলতে পারবে ইসলামের জন্য প্রথম যিনি শহীদ হয়েছিলেন কে? শোন তিনিও একজন নারী। হযরত সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত রাযিয়াল্লাহু আনহা হলেন ইসলামের ইতিহাসের প্রথম শহীদ। সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত রাযিয়াল্লাহু আনহাকে আবু জাহেল বর্শা মেরে হত্যা করেছিল। শুধু তাই না পবিত্র কোরানের ৪ নাম্বার সুরা নাম নেসা যার অর্থ নারী।
আল্লাহ সুবাহানাতাআল্লাহ কোরআনের সুরা আত তাহরীম এর ১১ ও ১২ নাম্বার আয়াতে দুইজন জান্নাতী নারীর নাম সরাসরি উল্লেখ করেছেন। একজন হচ্ছেন ফেরাউন-পত্নীর আসিয়া রাঃ যিনি মুসা আঃ লালন পালন করেছিলেন এবং অন্যজন ইমারান আঃ এর কন্যা মরিয়ম রাঃ যিনি ঈসা আঃ এর মা।
ভাবতে পারেন নারীকে আল্লাহ্ সুবাহানাতালাহ কত বড় মর্যাদা দান করেছেন। পৃথিবী সবচাইতে আপন যেজন তিনি মা একজন নারী।
এবার নিশ্চয়ই বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে। আল্লাহ নারীদের পুরুষের চাইতে বেশি সম্মান দিয়েছেন। আমাদের কোরান সম্পর্কে জ্ঞান নেই বলে একটি শ্রেণী ধর্মকে পুজি করে কিছু নিন্মশ্রেণীর কিতাব যাতে ভুল/মিথ্যা হাদিস দিয়ে নারীকে পণ্য আর দাসীর বানিয়ে রাখবার চেষ্টায় লিপ্ত।