স্বাধীনতা ঘোষণার ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভিয়েতনাম রাজধানী হ্যানয়ে আয়োজন করেছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ। মঙ্গলবার ভোরে প্রায় ৪০ হাজার সৈন্য ও বেসামরিক নাগরিকের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৫ সালের এদিন কমিউনিস্ট বিপ্লবী হো চি মিন ফরাসি শাসন থেকে ‘গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ভিয়েতনাম’ ঘোষণা করেছিলেন।
সকালের প্রচণ্ড রোদে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে রাজধানীর আকাশে উড়তে থাকে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান। জাতীয় পতাকা ও হাতুড়ি-কাস্তে খচিত ব্যানার বহনকারী হেলিকপ্টারগুলোর একটি স্কোয়াড্রনও মিছিলে অংশ নেয়।
৭৮ বছর বয়সী প্রবীণ সৈনিক ফাম থান ভ্যান, আমেরিকান সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধকালে অর্জিত পদক সম্বলিত সামরিক পোশাক পরে হো চি মিনের সমাধিসৌধের সামনে বসে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি এএফপিকে বলেন, “এটি হবে আমার শেষ স্মৃতি। আমাদের ভুলে যেও না।” তিনি আরও যোগ করেন, “স্বাধীনতা আমাদের দেশে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এনেছে, এর জন্য লড়াই করা সত্যিই সার্থক।”
কুচকাওয়াজের শুরুতে হ্যানয়ের শীর্ষ নেতা তো লাম বক্তৃতা দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাও লেজি, কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এবং কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল।
তো লাম বলেন, “এই পবিত্র মুহূর্তে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করছি। অসংখ্য চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে ভিয়েতনাম একটি উপনিবেশ থেকে স্বাধীন, ঐক্যবদ্ধ এবং আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।”
দুই ঘণ্টাব্যাপী এই শোভাযাত্রায় ভিয়েতনামি সৈন্যদের পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার সেনারাও অংশ নেয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত তরুণরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে, কামানের গোলা চালিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে এবং সাদা পোশাকের পুলিশ বাহিনীর অনার গার্ড আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে।
৩৪ বছর বয়সী দর্শক ট্রান নগুয়েন ট্রুং চিয়েন বলেন, “এটি ভিয়েতনামের শক্তি প্রদর্শন করে। জনগণ সবার প্রতি আতিথেয়তা জানাচ্ছে, যা ভিয়েতনামের গভীর দেশপ্রেমের প্রতিফলন।”
সূত্র: এএফপি।