শিরোনাম :
২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসছে প্রথম নারী ক্লাব বিশ্বকাপ, লড়বে ১৯ দল দুই বছরে ৪ বার অবমাননার শিকার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য:ক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধারা, সংস্কার কার্যক্রমে স্থবিরতা বঙ্গোপসাগরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন লঘুচাপের শঙ্কা, পাঁচ দিন পর বৃষ্টির আভাস মোংলা বন্দরকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্র বানানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর; সুন্দরবন উপকূল পরিদর্শনে দিনভর তৎপরতা আইনের শাসন সূচকে বাংলাদেশের দুই ধাপ অগ্রগতি, তবু মৌলিক অধিকার ও দেওয়ানি বিচারে বড় ধাক্কা ৩১ কোটি বই ছাপার মহাযজ্ঞ: নতুন শিক্ষাক্রম ও ৪ বইয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় এনসিটিবি প্রথম ফুটবলার হিসেবে স্পেনের ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ সম্মাননা নিচ্ছেন মেসি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় সম্মতি পুতিনের ভবিষ্যতে বিক্ষোভ না করার মুচলেকায় ৭ দিন পর মুক্তি পেলেন সিজেপির দুই শীর্ষ নেতা ফলপ্রসূ অংশীদারিত্বের লক্ষ্যে সেন্ট পিটার্সবার্গে চীন-রাশিয়া প্রধানমন্ত্রীদের সম্মেলন

স্থলপথে পোশাকসহ বাংলাদেশের ৭ পণ্যে নিষেধাজ্ঞা ভারতের

আশীষ কুমার দে, জার্মান বাংলা চ্যানেল, ঢাকা অফিস
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৭ মে, ২০২৫

বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ সাত ধরনের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের স্থলবন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটি।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য পরিদপ্তরের শনিবারের এক আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

তবে কলকাতা ও নাভা শেভা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশী পণ্য ভারতে নিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

এছাড়া মাছ, এলপিজি, ভোজ্যতেল ও ক্রাশড স্টোনের মতো কিছুপণ্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েনি।

গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দু’দেশের সম্পর্কে বিরাজমান টানাপোড়েনের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা দিলো ভারত।

ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে স্থলপথে সাত ধরনের পণ্য রপ্তানির সুযোগ হারালো বাংলাদেশ।

এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য পরিদপ্তরের আদেশে বলা হয়েছে।

তবে ভারতের তরফ থেকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে যেসব ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছে, তার কী হবে- সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

স্থপথে প্রবেশে ভারতের দেয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলো হলো:

১. তৈরি পোশাক।
২. বেকারি পণ্য।
৩. চিপস ও কনফেকশনারির মতো প্রক্রিয়াজাত খাদ্য।
৪. ফল ও ফলফ্লেভারড বা কার্বনেটেড পানীয়।
৫. সুতির বস্ত্র ও সুতির তৈরিবর্জ্য।
৬. প্লাস্টিক ও পিভিসি ফিনিশড পণ্য।
৭. শিল্পে ব্যবহৃত ডাই, প্লাস্টিসাইজার ও গ্রানুলস।

বাংলাদেশ থেকে এসব পণ্য ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্যের ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন ও ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট দিয়ে ভারতে রপ্তানি করা যাবে না (ভারত তাদের দেশে আমদানি করতে পারবে না)।

এছাড়া ভারত সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সে দেশের পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ি স্থলবন্দরও রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নানা বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

এর মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভারত থেকে স্থলপথে সুতা আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জানায়।

সেদিন একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বুড়িমারি ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সুতা আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

কতোটা ক্ষতির আশঙ্কা
ভারতের সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে যারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করে, তাদের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাণিজ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরগুলোতে চাপ পড়বে। ভারত বাংলাদেশকে দেয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করার পর এমনিতেই বন্দরগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তার ওপর ভারতে সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে পণ্য রপ্তানি করলে সেই চাপ আরও বাড়বে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানির মোট পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ছিল ৭০ কোটি ডলার। এর ৯৩ শতাংশই স্থলবন্দর দিয়ে যায়।

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মো হাতেম জার্মান বাংলা চ্যানেলকে বলেন, “তৈরি পোশাক স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি না হয়ে নৌপথে হবে, এতে পোশাকখাত খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি, অর্থাৎ প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। তারা ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে প্রচুর রপ্তানি করে।”

ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলোতে সমুদ্র পথে রপ্তানির কোনো সুযোগ নেই।

সীমান্ত বাণিজ্যও ‘বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে বলে মত দিয়ে হাতেম বলেন, “এটা তো মূলত চলছে রেষারেষি, এই রেষারেষিটার মধ্যে আমাদের যাওয়াটা ঠিক হয়নি।

বিকেএমইএ সভাপতি মো হাতেম আরো বলেন, “এর আগে আমরা স্থলপথ দিয়ে আমদানি বন্ধ করেছি, ওরা সব আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। আমি মনে করি, এ ধরনের রেষারেষি উভয় দেশের ব্যবসা ও ব্যবসায়ীর জন্য ক্ষতিকর। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এটার নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।”

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD