মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা। ছবি: সময় সংবাদ
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও একটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘাতের জেরে ৫৩ জন রোহিঙ্গা সশস্ত্র সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত অতিক্রম করে আসা এসব ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।
এর আগে রোববার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের ভেতরে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষের একপর্যায়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে পিছু হটে অবস্থান নেয়। পরে আবারও উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র জানান, এ সময় মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে একটি বসতঘরে আঘাত হানে। এতে আফনান (১০) নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। আফনান হোয়াইক্যং ইউনিয়নের একই এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এদিকে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, এখন পর্যন্ত ৫৩ জন রোহিঙ্গা সশস্ত্র সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সীমান্তে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।