রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ধারী রিয়াদসহ পাঁচজন শুধু অর্থ আদায়ে নয়, দেশের একটি সুসংগঠিত মাদক চক্রের সদস্য হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে তাদের গড়ে তোলা ‘সমন্বয়ক’ ছদ্মবেশী মাদক সিন্ডিকেট, যার জালে আটকা পড়ছেন শত শত তরুণ।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, গত এক বছরে ‘জুলাই আন্দোলন’কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পরিচিতির সুযোগে এই সিন্ডিকেট সদস্যরা দেশের নানা প্রান্তে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে তোলে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, উত্তরা, মিরপুর থেকে শুরু করে দেশের জেলা শহরগুলোতেও সক্রিয়ভাবে চাঁদাবাজি ও মাদক বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, অভিজাত বারে ও মাদকের আড্ডায় নিয়মিত চাঁদা তোলার পাশাপাশি তারা ওইসব স্থানে মাদক বিক্রির জন্য চাপ সৃষ্টি করত।
সূত্র আরও জানায়, গত ১১ মাসে দেশীয় বাজারে ভারত ও মিয়ানমার থেকে ব্যাপকহারে ইয়াবা, আইস, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক আসছে। এই মাদক জল, স্থল ও আকাশপথে প্রবেশ করছে দেশে। এসব চোরাচালান ও বণ্টনের নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ‘সমন্বয়ক’ ছদ্মবেশে গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এসব সমন্বয়ক মাসিক কিংবা দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা নিচ্ছেন। অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন মাদক সিন্ডিকেট শুধু বড় শহরে নয়, পাড়া-মহল্লা ও শিক্ষাঙ্গনেও সক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এমনকি স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে সমন্বয়ক পরিচয়ে তরুণদের নেশায় জড়ানো হচ্ছে। এতে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “প্রতিনিয়ত নতুন লোকজন মাদক বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ছে। তারা নিত্যনতুন কৌশলে মাদক পরিবহন ও বিক্রি করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও বড় মাপের পৃষ্ঠপোষক বা রাঘববোয়ালরা অনেক সময় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।”
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দ্রুত ধনী হওয়ার প্রবণতা, রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার কৌশলে মাদক কারবারিরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে। তবে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দেশজুড়ে গড়ে ওঠা মাদক সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।