শিরোনাম :
প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাড়ায় ছাড় উদ্বোধন, আন্তনগর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ চালুর ঘোষণা লিবিয়া থেকে ১৭০ বাংলাদেশি ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনে নতুন নিয়ম, নিজ দেশ থেকেই করতে হবে আবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিআরসি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ হামে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, একদিনে প্রাণ গেল ১৬ জনের আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মান নাগরিকত্বে নতুন রেকর্ড, বাড়ছে অভিবাসীদের আগ্রহ জার্মানিতে বাংলাদেশিদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের নতুন সুযোগ দেড় মাসে প্রাণ গেল ৫১২ শিশুর, নতুন উপসর্গ প্রায় দুই হাজারের শিশু ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

শরণার্থী না নিয়ে অর্থ প্রদানে সম্মত পর্তুগাল, ইইউ নীতিতে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন নীতির আওতায় শরণার্থী পুনর্বাসনের পরিবর্তে আর্থিক অবদান দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে পর্তুগাল। নিজস্ব অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে দেশটি ৪২০ জন আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ না করে ইউরোপীয় কমিশনকে প্রায় ৮৪ লাখ ইউরো পরিশোধে সম্মত হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন সংহতি কাঠামোর অংশ হিসেবে নির্ধারিত পুনর্বাসন পরিকল্পনা থেকে সরে এসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে লিসবন। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, অভিবাসীদের সরাসরি গ্রহণ না করলেও অর্থ প্রদানের মাধ্যমে ইইউর তথাকথিত ‘সংহতি প্রক্রিয়া’ বা সলিডারিটি মেকানিজমে অংশ নিচ্ছে দেশটি।

পর্তুগিজ গণমাধ্যম এসআইসি নোতিসিয়াস জানিয়েছে, সরকারের মূল্যায়নে বর্তমান আবাসন, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সামাজিক সেবার কাঠামো ৪২০ জন নতুন আশ্রয়প্রার্থীকে সামাল দিতে অক্ষম। ফলে এই পুনর্বাসন কার্যকর হলে পুরো ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণেই বিকল্প পথ হিসেবে অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী জুন মাস থেকে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে এই অর্থ পরিশোধ শুরু করবে পর্তুগাল।

ইউরোপীয় কমিশনের তত্ত্বাবধানে এই অর্থ ইইউর সংহতি তহবিলে জমা হবে, যা মূলত অভিবাসনচাপে থাকা দেশগুলোকে সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হবে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন চুক্তির আওতায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো তিন ধরনের সংহতির যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবে—আশ্রয়প্রার্থী পুনর্বাসন, আর্থিক অবদান অথবা বিকল্প সংহতি ব্যবস্থা প্রস্তাব।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র ২০২৬ সালে ২১ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী পুনর্বণ্টনে সম্মত হয়। সে অনুযায়ী মোট সংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ, অর্থাৎ ৪২০ জন আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ করার কথা ছিল পর্তুগালের। তবে সরকার সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আপত্তি জানায়।

পর্তুগালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাঁও আমারো এই বণ্টন হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্রাসেলসকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। বর্তমানে ইউরোপীয় কমিশন পর্তুগালের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং দেশটিকে সংহতি ব্যবস্থার কিছু অংশ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অবজারভাদর।

চুক্তি অনুযায়ী সাইপ্রাস, গ্রিস, ইতালি ও স্পেনকে অভিবাসনচাপে থাকা দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তারা সংহতি তহবিলের প্রধান সুবিধাভোগী হবে। পাশাপাশি অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া ও পোল্যান্ডকেও আগের বছরগুলোর সম্মিলিত অভিবাসন চাপের কারণে ‘গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন পরিস্থিতি’র মুখে থাকা দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ইউরোপীয় কাউন্সিল জানায়, এসব দেশ প্রথম দফার সংহতি তহবিলে তাদের আর্থিক অবদান পুরোপুরি বা আংশিকভাবে কমানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সেই অনুযায়ী তাদের প্রতিশ্রুতি সমন্বয় করা হয়েছে। একই কারণে জার্মানিকেও প্রথম বছরে আর্থিক বা বিকল্প কোনো অবদান দিতে হয়নি, কারণ দেশটি ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে বড় পরিসরে শরণার্থী জনগোষ্ঠী বহন করে আসছে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস, ইউরোপীয় গণমাধ্যম।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD