বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল জমকালো বিয়ে,যেখানে বরযাত্রীদের শোভাযাত্রা সজ্জিত হতো হাতি,ঘোড়াসহ পালকির মতো রাজকীয় উপকরণে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এ ধরণের আয়োজন হারিয়ে গেলেও ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক জমকালো বিয়ের আয়োজন ফিরিয়ে এনেছে সেই ঐতিহ্যের স্বাদ।
৪ বেহারার পালকিতে আসবে বউ,তাইতো ফুল দিয়ে সাজানো হচ্ছে সকাল থেকেই। অপরদিকে হাতিতে চড়ে যাবে বর তাই হাতিকেও দেওয়া হচ্ছে রাজকীয় সাজ। আবার বরযাত্রীদের জন্য সাজানো রয়েছে ঘোড়ার গাড়ি। সকাল থেকে সাজগোজের পর রাজার তরবারি হাতে নিয়ে হাতিতে চেপে বসেন বর। সানাইয়ের সুরে সুরে বরযাত্রী নিয়ে ছুটে চলে কনের বাড়িতে। ব্যতিক্রমী এমন বিয়ে হয়ে গেলো ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নবগ্রামে। ভিন্নধর্মী এ আয়োজন দেখতে বিয়ে বাড়িতে ভীড় করেন আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ।
জানা যায়,জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জেবা খাতুনের সাথে ৬ মাস আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো একই গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে নিশানের। প্রেমের বিষয়টি পরিবারকে জানালো উভয় পরিবার রাজি হয় এ বিয়েতে।
একমাত্র ছেলেকে রাজকীয় ভাবে বিয়ে দিবেন এই শখ থেকেই আয়োজন করে ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানের। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাতি,ঘোড়ার গাড়ী আর পালকি আনেন বিয়ের জন্য। দিনক্ষণ ঠিক করা হয় বৃহস্পতিবার। দুপুরের পর ৩০০ বরযাত্রী নিয়ে বিয়ে করতে যান নিশান। নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে পুরণ হয় দুইজনের ভালোবাসা আর বাবা মায়ের শখ।
আধুনিকতার যুগে এমন বিয়ে দেখে অভিভুত স্থানীয় ও বরযাত্রীরা। সেই সাথে রাজকীয় বিয়ের শখ পুরণ করতে পারায় খুশি পরিবারের সদস্যরা।
কলেজ পড়ুয়া বর নিশান ও কণে জেবার বিয়েতে দেনমোহর করা হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।