বৃহস্পতিবার (২১ জুন) সকাল ৬টার দিকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেছেন বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক৷
লিবিয়ার ত্রিপোলিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি ইনফোমাইগ্রেন্টস কে নিশ্চিত করেছেন৷ বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক৷ লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি৷
দূতাবাস জানিয়েছে, বুধবার (২০ আগস্ট) বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে বাংলাদেশিদের গ্রহণ করার পর স্থানীয় সময় বিকালে বেনগাজির বেনিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বুরাক এয়ার লাইনসের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে (ইউজেড ২২২) তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়৷ আজ সকালে তাদের বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন৷
গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বিদায় জানান রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশারের নেতৃত্বে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল৷ প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত৷ আগামী দিনগুলোতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন তিনি৷
আইওএম-এর সহযোগিতায় ২০২৩ সালের জুন থেকে চলতি বছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত মোট পাঁচ হাজার ৭১৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে৷ছবি: Embassy of Bangladesh in Libya
বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈধ ও নিরাপদ পথে বিদেশ যেতে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই৷ প্রত্যেক বাংলাদেশিকে নিজ নিজ এলাকায়
অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকার রাখার আহ্বান জানান তিনি৷ একইসঙ্গে দেশে ফিরে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ভুক্তভোগীদের পরামর্শ দেন লিবিয়ায় বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত৷ এক্ষেত্রে দূতাবাসের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও বাংলাদেশিদের আশ্বস্ত করেন তিনি৷
আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার বলেন, অনিয়মিত অভিবাসনের ফলে শুধু ব্যক্তির আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতিই হয় না, বরং তার পরিবার ও সমাজও মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হয়৷
তিনি আরো বলেন, অনিয়মিত অভিবাসনের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এবং নিয়মিত পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হয়ে আসে৷
দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে নিয়মিত পথে বিদেশ গেলে প্রবাসীরা সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে মূল্যবান অবদান রাখতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার৷
দূতাবাস জানিয়েছে, এর আগে গানফুদা আটককেন্দ্রে আটক বাংলাদেশি অভিবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে দূতাবাস৷ পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের পর তাদের জন্য ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়৷ পরবর্তীতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আইওএম-এর সার্বিক সহযোগিতায় তাদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
সূত্র : ডয়েচেভেলে।