একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদÐাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে বেকসুর খালাসের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ডাকা মশাল মিছিলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির রাত সোয়া ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্যারিস রোডে এ হামলা চালিয়েছে বলে ছাত্র জোট অভিযোগ করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মিছিল চলাকালে ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’র ব্যানারে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা দুই দফা তাদের ওপর হামলা করে। এ হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। তবে, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি সংগঠনটির সেক্রেটারির।
আহতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রগণমঞ্চের সভাপতি নাসিম সরকার, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সংগঠক তারেক আশরাফ, ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কাইসার আহমেদ, ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ সৈকত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধি নোমান ইমতিয়াজ।
তবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আহত কর্মীদের পরিচয় জানা যায়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদÐাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টিএম আজহারুল ইসলামকে বেকসুর খালাসের প্রতিবাদে মশাল মিছিলের ডাক দেয় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে তা একটু দেরিতে শুরু হয়।
এদিকে, ছাত্র জোটের মিছিল হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’র ব্যানারে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্র শিবির। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পরিবহন মার্কেটের আমতলায় সমাবেশে করে। অন্যদিকে রাত সোয়া ৮টার দিকে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা মশাল জ্বালিয়ে ¯েøাগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে সমাবেশে উপস্থিত শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের দিকে তেড়ে আসে। এ সময় উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। শিবিরের নেতাকর্মীরা চেয়ার, ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় দেশ রূপান্তরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নোমান ইমতিয়াজ আহত হন।
পরে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল নিয়ে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া একাডেমিক ভবনের দিকে এগিয়ে গেলে তাদের পিছু নেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীদের এগিয়ে যেতে বাধা দেন শিবিরের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নওসাজ্জামানসহ কয়েকজন।
পরে মশাল মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে পৌঁছালে শিবিরের নেতাকর্মীরা আবারো বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে।
এ সময় বামপন্থী ছাত্রনেতা নাসিম সরকারকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে পড়ে যান। এতে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্র জোট নেতারা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে এসে সমাবেশ করেন। এ সময়ও শিবিরের নেতাকর্মীরা এসে তাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন ¯েøাগান দেয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহŸায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “আমাদের মশাল মিছিলে প্রায় সকলেই আহত হয়েছেন। তবে চারজন নেতার শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে।”
‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’র আহŸায়ক রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আজকে আদালতের একটি রায় এসেছে। কিন্তু যারা এ রায় মেনে নেয়নি, তাদের আমরা সবাই চিনি। তারা ২০১৩ সালেও আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে শাহবাগতন্ত্র কায়েম করে ফ্যাসিবাদের বীজ রোপন করেছিল। চব্বিশে এসে ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে আমাদের তা সমাধান করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, শাহাবাগীরা সব সময় হাসিনা আর ভারতের ম্যান্ডেট সার্ভ করেছে। আজ আমরা বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে পরিবহন চত্বরে একত্রিত হয়েছি। আমরা শাহবাগবিরোধী ¯েøাগান দিয়েছিলাম, তখন তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর ঢিল-নিক্ষেপ করে উত্তেজিত করে দিয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোজাহিদ ফয়সাল বলেন, “এটা আদতে ছাত্রশিবিরের কোনো প্রোগ্রাম নয়। এটা ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’র প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় সেখানে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরাও অংশগ্রহণ করেছেন। হাসিনাকে ফ্যাসিবাদী ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করার জন্য ২০১৩ সালে তাদের যে ভূমিকা, এটির বিরুদ্ধেই আজকের কর্মসূচি ছিল।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করেছে। সেখানে ছাত্র উপদেষ্টাও কাজ করেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ করেছে। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেবো।”