রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক ঘটনায় চার নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে বাড্ডা, মিরপুর, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় এসব অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চারটি মরদেহই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া আদর্শবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে আশা আক্তার (২৯) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ভাই আব্দুল্লাহ আকাশ জানান, আশা একটি পার্লারে চাকরি করতেন। তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছিল এবং সেই সংসারে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে অন্য এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে ওই সম্পর্কের টানাপোড়েনের জের ধরে শুক্রবার রাতে তিনি নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করে। আশার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। তার বাবার নাম আব্দুল কালাম।
এদিকে ডেমরার পূর্ববক্সনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে কোহিনূর (৩৬) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ডেমরা থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত কোহিনূরের বাড়ি খুলনার কয়ড়া উপজেলায়।
মিরপুরের ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় সানজিদা ইসলাম মিম (১৯) নামে এক তরুণী গলায় ফাঁস দেন। শনিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বজনরা তাকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে বাড্ডা থানার আফতাবনগর বাঘাপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে সুবর্ণা খাতুন (৩০) নামে এক গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা জানান, সুবর্ণা তার স্বামীর সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার রাতে তিনি গলায় ফাঁস দেন। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুবর্ণার গ্রামের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলায়। তার বাবার নাম মো. আব্দুল মতিন।
পুলিশ জানায়, প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে পৃথকভাবে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।