আফগানিস্তানসহ মোট ১৯টি দেশের গ্রিন কার্ডধারীদের নথি পুনরায় কঠোরভাবে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিবাসন নিরাপত্তা জোরদার ও সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে এসব অভিবাসীর অতীত তথ্য ও নিরাপত্তা যাচাই–বাছাই নতুন করে করা হবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
এই সিদ্ধান্ত আসে ওয়াশিংটনে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করে হত্যার সাম্প্রতিক ঘটনার পর। বন্দুক হামলায় একজন গার্ড সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির ইঙ্গিত দেয়।”
হামলার পরপরই ২৯ বছর বয়সী আফগান নাগরিক রহমনুল্লাহ লাখানওয়ালকে আটক করে পুলিশ। তিনি ২০২১ সালে বিশেষ অভিবাসন কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন—যে কর্মসূচি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ঝুঁকিতে থাকা আফগান নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে চালু করা হয়।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস)–এর প্রধান জোসেফ এডলো জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে ‘উদ্বেগজনক দেশগুলো’ থেকে আগত প্রত্যেক বিদেশির গ্রিন কার্ড সম্পূর্ণ ও কঠোরভাবে পুনরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিবিসির প্রশ্নে ইউএসসিআইএস হোয়াইট হাউসের গত জুনের ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে। সেই তালিকায় রয়েছে—
আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা
এছাড়া মিয়ানমার, লিবিয়া, চাদ ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রসহ মোট ১৯টি দেশের গ্রিন কার্ডধারীরা নতুন করে এই কঠোর যাচাই–বাছাইয়ের আওতায় আসবেন।
হোয়াইট হাউস বলেছে, এসব দেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ, পরিচয় যাচাইয়ের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকা, এবং বিদেশি নাগরিকদের অতিরিক্ত সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান—এসবই পুনর্মূল্যায়নের কারণ। ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, তালেবান আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করায় দেশটিতে বৈধ পাসপোর্ট ইস্যু বা নাগরিক তথ্য যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই।
ইউএসসিআইএস গত সপ্তাহে আরও ঘোষণা দেয় যে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া সব শরণার্থীর স্ট্যাটাসও পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। অন্যদিকে বুধবার আফগানদের সব ধরনের নতুন অভিবাসন আবেদন গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, আগের প্রশাসন “বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে যাচাই–বাছাইহীন দুই কোটিরও বেশি মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দিয়েছে”—যা তাঁর মতে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি।
সূত্র: বিবিসি