যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শাটডাউনের কারণে দেশের ৪০টি প্রধান বিমানবন্দরে আগামী কয়েক দিনে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সংখ্যা ধাপে ধাপে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে। এতে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হবে এবং যাত্রীদের ভ্রমণে সমস্যা দেখা দেবে। এই সিদ্ধান্তের কথা বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি।
ফ্লাইট হ্রাসের সিদ্ধান্ত মূলত বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীদের অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং ক্লান্তি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৪ লাখ ফেডারেল কর্মী বেতন ছাড়াই কাজ করছেন অথবা বাধ্যতামূলক ছুটিতে রয়েছেন, কারণ কংগ্রেস এখনও বাজেট অনুমোদন দেয়নি। এফএএ প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড জানান, শাটডাউন এবং বেতনবিহীন অবস্থায় নিয়ন্ত্রণকারীদের কার্যক্রম চালানো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
ফ্লাইট হ্রাস ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। শুক্রবার থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সংখ্যা ৪ শতাংশ কমানো হবে, ১১ নভেম্বর তা ছয় শতাংশে, ১৩ নভেম্বর আট শতাংশে এবং ১৪ নভেম্বর পূর্ণ ১০ শতাংশে পৌঁছাবে। এতে হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল, নিউ ইয়র্ক জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল, শিকাগো ও’হেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, রোনাল্ড রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনালসহ ব্যস্ত শহরের বিমানবন্দরগুলো প্রভাবিত হবে। প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চার হাজার ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে না।
বিমান সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের সতর্ক করেছে এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা এফএএ-এর কাছ থেকে আরও তথ্যের অপেক্ষায় আছে এবং আশা করছে অধিকাংশ যাত্রীর ফ্লাইটে প্রভাব পড়বে না। ডেল্টা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, অধিকাংশ ফ্লাইট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলবে এবং যাত্রীরা বিনা জরিমানায় বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবেন।
এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফ্লাইট চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীদের ক্লান্তি কমানো।
সূত্র: বিবিসি।