শিরোনাম :
বন্ধ পাটকল চালু করলে অর্থনীতিতে গতি আসবে;বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যকর মাধ্যম: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সংশ্লিষ্টদের সেবকের ভূমিকা পালন করতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বাংলাদেশ-সেনেগাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ বাংলাদেশ ইতালির সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর-পূর্ব জাপানে ভূমিকম্পে কাঁপন, তিন মিটার সুনামির আশঙ্কা লেবাননে ধর্মীয় প্রতীক ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তেজনা, আইডিএফের তদন্ত শুরু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ক্যান্টন ফেয়ারের বাড়তি গুরুত্ব বৈশ্বিক চলচ্চিত্র সংযোগে বেইজিংয়ের অগ্রযাত্রা অনিশ্চিত বিশ্বে চীনের অর্থনীতি স্থিতির ভরসা

মৎস্যজীবী লীগ সভাপতির অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামের মানুষ

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১৯

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে উপজেলা মৎস্যজীবী লীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান রাসেলের দাদন ব্যবসার স্বীকার হয়ে বসতবাড়ী ছাড়িয়ে এখন ঢাকায় ভুক্তভোগী পরিবার গুলো। ক্ষমতাসীন দলের দাপট দেখিয়ে নানাভাবে হয়রানি অব্যহত রেখেছেন এ মৎস্যজীবী লীগ সভাপতির পরিবার। মনিরুজ্জামান রাসেলের ৪ সদস্যের পরিবারে তার বাবা মুনসুর আমিন তালুকদার, মা সাবেক ইউপি সদস্য আরজিনা বেগম পৃথক পৃথক ভাবে দাদন ব্যবসায় জড়িত।

এলাকায় এ পরিবারটির নিকট দাদন গ্রহণকারী ১০ জনের অধিক ব্যক্তি নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। বসতবাড়ী ও এলাকা ছাড়া হয়েছেন ৩টি পরিবার। তারা হলেন দূর্গাপুর গ্রামের হান্নানের ছেলে শরিফুল, হান্নানের আরেক ছেলে সবুজ, একই গ্রামের
মোহাম্মাদের জামাই শাফি। তাদের ঘরে তালা লাগিয়ে মালামাল নিয়ে গেছে রাসেল ও তার পরিবার।

উপজেলা মৎস্যজীবী লীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান রাসেলের দাদন ব্যাবসার স্বীকার হয়ে বসতবাড়ী ছাড়া হয়ে এখন
ঢাকায় পরিবার সহ মানববেতর জীবন যাপন করছে এ পরিবার গুলো। দাদনের টাকা পরিশোধ না করায় ভুক্তভোগীদের বসতবাড়ী হতে মালামাল নিয়ে তালা লাগিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকা দাদন ব্যবসায় লিপ্ত এ পরিবারটি।

দাদনের টাকা নিয়ে এ পরিবারটির হাতে নির্যাতনের স্বীকার দূর্গাপুর গ্রামের লুৎফর ছেলে ফারুক জানান, তারা বিভিন্ন সময় সুদের টাকার জন্য মানুষকে মারধর করতো। এর প্রতিবাদ করলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবাদকারীদের বিভিন্ন মামলা মোকাদ্দমায় জড়িয়ে হয়রানী করতো।

শামসুলের স্ত্রী জাহানারা জানান, আমার ছেলেদের মিথ্যা মামলায় আসামী করে বহুভাবে হয়রানী করেছে এই পরিবারটি।

আছিরের ছেলে তারু ও তার স্ত্রী জানান, মিথ্যা ডাকাতি মামলায় তারুকে সহ কয়েকজনকে আসামী করে হয়রানী করা ছাড়াও শাররিকভাবে নির্যাতন করেছে রাসেল ও তার বাবা মা।

দূর্গাপুর গ্রামের সামাদের ছেলে মোকসেদ, মততাজের স্ত্রী, তছিরের স্ত্রী,আছিরের ছেলে লাল মিয়াসহ অনেকেই জানান, রাসেল একটি সেচ্ছাসেবী জনকল্যাণমূলক সংগঠনের শ্লোগান দিয়ে রেজিস্ট্রেশন বিহীন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সংস্থার নামে এ দাদন ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

তাদের অমানুবিক অত্যাচারে গ্রামের সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে মুখর হয়ে ফুসে উঠেছ। গত ২০ জানুয়ারি মহদীপুর
ইউনিয়নের নতুনবাজারে ভোক্তভোগী পরিবারগুলো ও স্থানীয়রা তাদের সকল ধরণে অপকর্ম ও দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির
দাবিতে এক মানববন্ধন করেন।

দূর্গাপুর গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তাজু মিয়া জানান, দীর্ঘদিন হলো আমি এ এলাকায় আওয়ামী লীগের
দলীয় পদে রয়েছি। সে কিভাবে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি হলো জানা নেই।

তিনি আরো বলেন, দলের এবং স্পিকার এ্যাড. ফজলে রাব্বীর নাতি পরিচয় দিয়ে এলাকায় বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ট হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে সামিল হয়েছে।

এ গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা তাতী লীগের সহ সভাপতি তারা মিয়া জানান, এ পরিবারটির কারণে অত্র এলাকার মানুষ আওয়ামী লীগের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

পলাশাবাড়ী থানার একজন কর্মকর্তা জানান, রাসেলের পরিবারের মিথ্যা অভিযোগের স্বীকার হয়ে স্থানীয়রা নানা ভাবে হয়রানি হচ্ছে। এদের ভালো মুখোশের আড়ালে চলে সুদের ব্যবসা যাকে আমরা বলি দাদন ব্যবসা। এ পরিবারটি পুরোপুরি দাদন ব্যবসার সাথে জড়িত।

এদিকে মানববন্ধনের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর ২২ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান উপজেলা মৎস্যজীবী লীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান রাসেল ও তার পরিবার।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD