তখন ২০০৪ সাল পঞ্চম শ্রেণীতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থী ছিলাম। আমরা যারা বৃত্তি পরীক্ষার্থী ছিলাম তাদের আলাদা করে কোচিং করাতেন স্কুলের স্যারেরা।স্কুল ছুটির দিনও আমাদের কোচিং মিস ছিলোনা। গ্রিষ্মের ছুটিতে সবাই যখন আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যেত তখনও আমরা স্কুলের কোচিং-এ ব্যস্ত থাকতাম।
সেদিন ছিলো শনিবার। সকাল থেকেই রিমঝিম বৃষ্টি হচ্ছে।চারিদিকে ছল-ছলাৎ বৃষ্টির খেলা। কখনও আকাশ গুম-গুড়ুম করে ডাকছে। গাছগুলো যেন চোখ বুজিয়ে ঝিমিয়ে আছে। আমরা দশজন এই বৃষ্টি মাড়িয়ে কোচিং করতে গিয়েছিলাম কিন্তু কপাল খারাপ বৃষ্টি আর আকাশের ধমকানির ভয়ে কোন স্যারই আসেন নি। বই ক্লাসরুমের দরজার কাছে বারান্দায় রেখে আমরা ছাতি মাথায় দিয়ে স্কুলের পিছনে বাওড়ের ধারে গিয়েছিলাম হাঁটতে।
চারিদিক নিঝুম। আলো আর আঁধারের কি অপরূপ দৃশ্য।
বাওড়ের মাঝ বরাবর যেই জায়গাটাকে আমরা দোয়া বলে থাকি সেদিকে তাকিয়ে গল্প ককরছি আর দেখছি বৃষ্টি পানির খেলা। আমরা গল্প করছিলাম বিশাল বাওড়ের ইতিহাস নিয়ে। কিন্তু হঠাৎ অবাক হয়ে সবার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। জবান বন্ধ হয়ে যায় যেন সবারই।গা’য়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। বাওড়ের মাঝখান থেকে একটা লম্বা আকৃতির কি যেন উঠলো।
তারপর সেটা কিভাবে যে মহিষ হয়ে গেলো বুঝতেই পারিনি।কালো রং এর, গা’য়ে বড় বড় লোম। বিশাল সিং তার দেখে কে না ভয় পাবে! পানির উপর দিয়ে সোজা হেটে চলছে। আমরা সবাই ভয়ে গাছের আড়ালে চলে যাই। সেখান থেকে উকিঁ মেরে দেখি তার কান্ড।
হঠাৎ কোথায় থেকে একটা শিশুর লাশ ভেসে তার সামনে গেল।মহিষের তো খুর থাকে কিন্তু আশ্চার্য বিষয় হলো ওটার কোন খুর ছিলো না।
শিশুর লাশটা ধরে তারপর ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছিলো মহিষটা।
আমরা ছোট মানুষ ওটা দেখে আরো ভায় পেয়ে যাই।বৃষ্টিও থামছেনা চারিদিকে কোথাও কেউ নেই।অস্তিত্বহীন পৃথিবীর মতই যেন তখন মনে হচ্ছিলো। আমাদের দেহ তখন শিহরিয়ে উঠে।
আমরা একে অপরের সাথে কথাও বলছি না শুধু দেখছি আর ভাবছি কি অদ্ভূদ ভূত। তখনই হঠাৎ মড়াৎ শব্দ করে আমাদের পাশে একটা মোটা গাছের ডাল ভেঙ্গে পড়লো।আমরা ভয়ে হাওমাও চিৎকার করতে করতে ছুটতে শুরু করলাম।
আমাদের চিৎকার শুনে যেন নির্জন পৃথিবী আবার জেগে উঠলো। আমাদের চিৎকারে আকাশ বাতাশ কাঁপতে শুরু করলো। এরকম ভয় আর জীবনে কখনো পাইনি। একজন তো সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো।
আমাদের চিৎকার শুনে সবাই ছুটে এলো। আমাদেরকে ভায়ে কাঁপতে দেখে লোকজন বুকে জড়িয়ে ধরলো। তারপর শান্ত করে আমাদের কাছে সব কাহিনী শুনলো। কবিরাজ এলো আমাদের গা ফু দিয়ে ঝাড়লো আর সবাইকে একটা করে ভয়ের তাবিজ দিলো।
তারপর বাড়িতে আসলে সবাই এই কাহিনী শোনার জন্য চারিপাশে ভিড় জামায়। তাদের শোনালাম এরকম অদ্ভুদ ভূত জীবনে তো আর কখনোই দেখিনি।