আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঐতিহ্যবাহী সামরিক জোট ন্যাটোর সম্পর্ক। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ন্যাটোকে ‘কার্যত অকার্যকর’ জোট হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সংঘাতে ইউরোপীয় মিত্ররা প্রত্যাশিত সমর্থন দেয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও ন্যাটোর দেশগুলো কার্যকর সহযোগিতা থেকে বিরত থেকেছে। এমনকি কিছু দেশ মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি এবং প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রদানেও অনীহা দেখিয়েছে।
ব্রিটেনের ভূমিকাও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, লন্ডনের সিদ্ধান্ত ছিল দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্রিটিশ সরকারের অগ্রাধিকার নিয়েও বিদ্রূপ করেন তিনি।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একই সুরে মন্তব্য করে বলেন, বর্তমান ন্যাটো কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একতরফা দায়ে পরিণত হয়েছে। তার মতে, ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হয়, কিন্তু প্রয়োজনের সময় মিত্রদের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফলে ইরান সংকটের পর জোটের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বক্তব্যগুলো ন্যাটোর ভেতরে দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের অবস্থান পশ্চিমা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে।