মায়ের জানাজায় অংশ নিতেও প্যারোলে মুক্তির অনুমতি পাননি বাংলাদেশের একজন সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য। তিনি হলেন উত্তরাঞ্চলীয় জেলা রাজশাহীর একটি আসনের সাবেক আইন প্রণেতা আসাদুজ্জামান।
হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। অনেকেই এ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করছেন।
সদ্য মাতৃহারা আসাদুজ্জামান রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ছাড়াও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
তবে সরকার তাঁকে প্যারোলে মুক্তি না দিলেও মৃত মায়ের মুখ দেখার সুযোগ করে দিয়েছিল।
সোমবার (২ জুন) রাত সোয়া ৮টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে তাঁকে দূর থেকে মৃত মায়ের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
আসাদুজ্জামান ছাড়া তার অন্য চার ভাইও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় সবাই আত্মগোপনে রয়েছেন। তাই তারাও মায়ের জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। শেষবারের জন্য গর্ভধারিনী মায়ের মুখটিও দেখার সুযোগ পাননি তারা।
আসাদুজ্জামান ত্রয়োদশ সংসদ (সর্বশেষ জাতীয় সংসদ) নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি হয়েছিলেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কিছুদিন পর তিনি ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।
আসাদুজ্জামানের মা সালেহা বেগম সোমবার বিকেলে ৮০ বছর বয়সে মারা যান।
তার স্বজনরা জানান, মায়ের মৃত্যুর পর বড় ছেলে আসাদুজ্জামান প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়নি। সুযোগ দেয়া হয়েছিল কারাফটকে মৃত মায়ের মুখটি শেষবার একনজর দেখার।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান বলেন, আসাদুজ্জামানকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়নি। মানবিক কারণে মরদেহটি অ্যাম্বুলেন্সে করে জেলগেটে এনে দূর থেকে তাকে দেখানো হয়েছে।
প্যারোলের মুক্তি চেয়েও না পাবার বিষয়ে জানতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারকে কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।
আসাদুজ্জামান রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা সাত ভাই–বোন। মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ হয়েছে ছেলে আক্তারুজ্জামানের। তিনি প্রাইভেটকার চালক। তিনি রাজনীতিতে জড়াননি।
আসাদুজ্জামানের স্বজনেরা জানান, বিকেলে বাড়ি গিয়ে মৃত মায়ের মুখ দেখেছিলেন আক্তারুজ্জামান। তবে নিরাপত্তার কারণে তাকে (আসাদ) সে সুযোগ দেয়া হয়নি।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় রাজশাহী নগরের মহিষবাথান কবরস্থানের পাশে জানাজা শেষে সালেহা বেগমের লাশ দাফন করা হয়।